তাজপুর ইউপিতে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে রিট
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জুন ২০২৬, ৮:১৬:১৫ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানীনগরের ৬নং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ˆবধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এক রিট পিটিশন দায়ের করা হলে শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন| একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| গত ১২ মে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ও ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) মো. কবির আহমদ প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন (নং-৫৭০৭/২০২৬) দায়ের করেন|
জানা যায়, সংক্ষুব্দ ব্যক্তি রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে ২০ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমš^য়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ˆবধতা নিয়ে রুল জারি করেন| ১ জুন মো. কবির আহমদ সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন|
হাইকোর্টে দাখিলকৃত রিটে মো. কবির আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬নং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হন| পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তিনি ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন| নির্বাচিত চেয়ারম্যান পরিষদে দীর্ঘদিন দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় এবং ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা হয়| এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৫ সালের ২৪ জুন তারিখে জেলা প্রশাসককে পুনরায় প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের নির্দেশনা দেন এবং একই তারিখে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়| এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে মো. কবির আহমদ হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং-১৫৫৬২/২০২৫) দায়ের করলে শুনানি শেষে গত বছরের ২৪ সেপ্টে¤^র মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লি¬ষ্ট পক্ষসমূহকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন| এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষে সরকার সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (নং-৩৯৪৫/২০২৫) দায়ের করলে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন হয়|
এদিকে, বিষয়টি বিচারাধীন থাকাবস্থায় চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সরকারি ছুটির দিনে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারিকৃত এক পত্রের মাধ্যমে ওসমানীনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়| তখন ইউনিয়নের সাধারণ লোকজন এর প্রতিবাদে সভা, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন| এরপর এই নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে মো. কবির আহমদ ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন| রিটের শুনানি শেষে আদালত (স্মারক নং-০৫.৪৬-৯১০) প্রশাসক নিয়োগের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন| পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন|
রিটকারী মো. কবির আহমদ বলেন, আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং ˆবধভাবে নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যান| গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ও হাটবাজারে সরকারের সিসিটিভি স্থাপন প্রকল্পে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর আমাকে ষড়যন্ত্র করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রশাসক বসানো হয়|আমি ন্যায়বিচার পেতে আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি|
তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এম. সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমার কাছে একটা কাগজ এসেছে জবাব প্রদানের জন্য| আপনারা ডিসি স্যার এবং ইউএনও স্যারের কাছে বিস্তারিত জানতে পারবেন|






