জুনে একাধিক তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জুন ২০২৬, ১১:৫৯:১৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের শুরু চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আর জুনের শুরু থেকেই বৃষ্টি ঝরানো মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করে। তাই এ মাসে বৃষ্টি হয় যথেষ্ট। বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি ঝরে এ মাসে। কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তরের চলতি জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, এ বছর এ মাসে একাধিক তাপপ্রাবাহের কবলে পড়তে পারে দেশ।
এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। যদিও গত এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল বা দেশের সবচেয়ে গরমের মাসে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা খুব অস্বাভাবিক। এপ্রিলের এ বৃষ্টিতে বিশেষ করে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
আবহাওয়া অফিস জুন মাসের আবহাওয়ার এ পূর্বাভাস দিয়ে প্রতিবেদনটি দিয়েছে সোমবার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। তবে এ মাসে একাধিক লঘুচাপের সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে একটি আবার মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
জুন মাসে দেশে গড়ে ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এটা বছরের দ্বিতীয় বৃষ্টির মাস। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, ৫২৩ মিলিমিটার।
এ মাসের শুরু থেকে মৌসুমি বায়ু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে এ মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। শুধু তা-ই নয়, দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহও হতে পারে।
এ প্রতিবেদনে গত মে মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। দেখা গেছে, গত মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে রংপুর বিভাগে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টি হয়।
এদিকে, প্রচণ্ড রোদ আর তাপমাত্রা বেড়ে সিলেটের সর্বত্রই বিরাজ করছে তীব্র গরম। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথঘাট সবকিছুই উত্তপ্ত। তীব্র এই গরমে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ। রাস্তাঘাটে লোকজন কম বের হওয়ায় আয় কমেছে তাদের। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শুধু তাই নয়, গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রাণিকুলও।
মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৪০ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেটে তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী। আগের দিন সোমবার ছিলো ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে- এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।





