বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬, ৮:২৭:৪১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক ঋণমান যাচাইকারী সংস্থা- ফিচ রেটিংস| সংস্থাটির মতে, কর আহরণে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে| মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ˆবশ্বিক এই রেটিং এজেন্সি উল্লেখ করেছে, নতুন বাজেটে রাজস্ব জিডিপি অনুপাত ১০.২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল প্রায় ৮ শতাংশ| এই লক্ষ্যমাত্রাটি যদি শেষ পর্যন্ত অর্জিত হয়, তবে তা হবে ১৯৯৩ সালের পর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব জিডিপি অনুপাত|
ফিচ জানিয়েছে, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়নই হবে আগামী অর্থবছরের প্রধান আর্থিক চ্যালেঞ্জ| কারণ বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ ১৯ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি—নমিনাল রেভিনিউ বা মুল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয় পূর্ব রাজস্বেরবছরভিত্তিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে|
কর প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কর অব্যাহতি সুবিধা হ্রাস, এসএমই খাতের জন্য ভ্যাট পরিপালন সহজ করা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়ানোর মতো পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে করের আওতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে| তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে বাংলাদেশের এমন অনেক সংস্কার প্রচেষ্টাই অতীতে ভেস্তে গেছে|
রেটিং এজেন্সিটি বাজেটে উচ্চ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে| বিশেষ করে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অবকাঠামো খাতে মোট বাজেটের যথাক্রমে ২৯.৭ শতাংশ এবং ১৮.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে| এটি নবনির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন হলেও— রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছে ফিচ|






