মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০৯ অভিবাসী আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৫:৫৫ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের ইপোহ শহরে পৃথক দুটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১০৯ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৫ জন পুরুষ ও ৩৪ জন নারী।
শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে একটি বিনোদনকেন্দ্র, চারটি ম্যাসাজ পার্লার ও ইপোহের পাইকারি বাজারে তল্লাশি চালানো হয়।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগ, পুত্রজায়ার বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশের ৬৬ সদস্যের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
তিনি জানান, রাত ৯টায় বিনোদনকেন্দ্র ও চারটি ম্যাসাজ পার্লারে ‘অপ গেগার’ নামে অভিযান চালিয়ে ৭০ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় ৩৪ জন নারীকে আটক করা হয়। পরে রাত ১টা ৩০ মিনিটে পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে ৭৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করে ৭৫ জন পুরুষকে আটক করা হয়।
পাইকারি বাজার থেকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, লাওস ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, বিনোদনকেন্দ্র ও ম্যাসাজ পার্লার থেকে আটক নারীরা থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের নাগরিক।
অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসা বা অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান এবং পারমিট বা পাসের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ ও অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় পাঁচজন নিয়োগকর্তাকে সমন জারি করে তদন্তে সহযোগিতার জন্য অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখায় হাজির হতে বলা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
লোকমান এফেন্দি আরও জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়াজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে প্রায় দেড় লাখ বিদেশির পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। এ সময়ে ৬৬ হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসন বিভাগের অভিযানে এবং বাকিরা অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে বা বিভিন্ন অভিযানে আটক হন।
তিনি জানান, একই সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৪৫ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





