যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বন্ধুত্বের প্রত্যাশা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুলাই ২০২৩, ১২:১০:৩৫ অপরাহ্ন
পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে অঘটন ঘটন পটিয়সী হিসেবে স্বীকৃত। সে যে কোন দেশের সরকার পাল্টাতে পারে ও যে কাউকে সরকারে বসাতে পারে এমনটি বিশ্বাস করা হয়। এ বিশ্বাসের পেছনে সংগত কারণও রয়েছে। দুনিয়াজুড়ে দেশটির মাতব্বরি লক্ষ্য করা যায়। অনেকে তাদের এই মাতব্বরি পছন্দ করেন না আবার অনেকে তাকে ভালোবেসে এতে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। প্রশ্রয়ও দেন এজন্য যে, তারা শাসন করলেও সাহায্য সহযোগিতা করে অকাতরে যা অন্য কোন দেশ করে না বা করার সামর্থ্য রাখে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রেরর সাথে বন্ধুত্ব করতে বিশ্বের প্রায় সকল দেশই মরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের একটু আনুকূল্য পেতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে থাকে প্রায় সবাই। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সহায়তা ও আনুক’ল্য পেয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। সাহায্য, অনুদান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব দিক দিয়েই দেশটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত নির্ভর ও ভরসা জায়গা। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য গার্মেন্টস এর সবচেয়ে এর সবচেয়ে বড়ো অংশ রফতানি হয় এই যুক্তরাষ্ট্রে। প্রবাসী রেমিট্যান্স আসে সবচেয়ে বেশী এই দেশ থেকে। টেকসই রেমিট্যান্স আয়ের উৎস হিসেবে সৌদী আরবের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের স্থান উর্ধে। কারণ সৌদী আরব প্রবাসী বাংলাদেশীদের যে কোন মুহূর্তে বের করে দিলে বা দেশে ফেরত পাঠালে সেই রেমিট্যান্স বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেই ভয় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীরা সে দেশের স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক। তাই তাদের রেমিট্যান্স স্থায়ী বা টেকসই। এগুলো ছাড়া আরো কতোভাবে এদেশের মানুষ যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তা বলতে গেলে একটি মহাকাব্য হয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিশ্বের বিশেষভাবে বাংলাদেশের জন্য এই পরম হিতকামী ও বন্ধু দেশটির সাথে সাম্প্রতিক আচরণ যেমন অসংগতিপূর্ণ তেমনি অবন্ধুসুলভ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। এতে এই বন্ধু দেশটিও ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। এটা তাদের আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে। দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, এতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশই যে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা ও অন্যান্য মিত্র দেশগগুলো চাইছে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। প্রতিষ্ঠিত হোক গণতন্ত্র। কিন্তু এদেশের ক্ষমতাসীন মহল এটাকে ভালো চোখে দেখছেন না বিষয়টিকে। কারণ তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এখানেই দ্বিমত।
এমনি বিরোধ ও বৈরিতার মধ্যে ক্ষমতাসীন নেতানেত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রায়ই বিষোদগার করছেন। যার ফলশ্রুতিতে এদেশের ওপর নেমে এসেছে বেশ কিছু শাস্তির খগড়। এর মধ্যে র্যাবসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও মারাত্মক নতুন ভিসানীতির কথা উল্লেখ করা যায়। আমরা হিতকামী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বন্ধুত্ব প্রত্যাশা করি, এ ধরনের বৈরিতা বা সম্পর্কের টানাপোড়েন নয় কোনভাবেই।




