ভিসা নীতি নিয়ে সতর্কতা প্রসঙ্গে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুলাই ২০২৩, ১২:৩০:১৫ অপরাহ্ন

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, নতুন ভিসা নীতি ঢালাওভাবে যেনো প্রয়োগ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই নীতির যথাযথ প্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তার দাবি, ওয়াশিংটনও তাই মনে করে। গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে লক্ষ্য করে যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে, তা এখনো বাংলাদেশে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা অব্যাহত। এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যে কোন বাংলাদেশী নাগরিকের ভিসা প্রদানে বিধি নিষেধ আরোপ করতে পারে।
এই ভিসা নীতি যেসব ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত, যারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন আচরণ বা কর্মকান্ডে জড়িত। এদের মধ্যে অন্য অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তা কর্মচারী, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী, সরকারের সমর্থক ও বিরোধী দলীয় সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।
সচেতন মহলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে, তার লক্ষ্য বিষয়ে কোন রাখঢাক করা হয়নি, এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের সকল নেতামন্ত্রী ও আমলারা ভালোভাবেই বুঝতে সক্ষম। এ অবস্থায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সতর্কতার সাথে এই ভিসা নীতি প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যে আহবান বা দাবি জানিয়েছেন, অনেকের মতে, তা নিতান্তই ঠুকনো ও অর্থহীন। কারণ একথা সত্য যে, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণতঃ অনেক বিচার বিশ্লেষণ, যাচাই ও দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা ছাড়া কোন অভ্যন্তরীণ বা বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে না। আবার প্রেসিডেন্ট কিংবা কোন একক নেতা নেত্রী বা কর্মকর্তার ইচ্ছামাফিক কোন নীতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী পরিষদ, সিনেট ও কংগ্রেসের মধ্যে দিয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় যে কোন গুরুত্বপূর্ণ নীতি পাশ বা অনুমোদিত হয়। তারা শুধু কোন নীতি প্রণয়ন ও ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয় না, তার যথাযথ প্রয়োগ ও নিশ্চিত করে সমান মনোযোগ ও দায়িত্ব সহকারে।
এদিক দিয়ে বাংলাদেশে তাদের নতুন ভিসা নীতির অপপ্রয়োগের তেমন কোন আশংকা নেই। প্রয়োগের বিষয়টি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হলেও তারা যার তার বিরুদ্ধে যে কোন সময় নির্বিচারে এটা প্রয়োগ করবে এমনটি ভাবার কোন অবকাশ নেই। আর যেহেতু ভিসা নীতিটি যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে নিজেদের দেশে প্রবেশের বিষয়ে প্রণয়ন করেছে, তাই এ নিয়ে বাংলাদেশেরও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলার বা প্রতিবাদ করার কিছু নেই। এ বিষয়ে কখনো যদি অসতর্কভাবে বা ভুলভাবে কিছু করেও তবুও তা নিয়ে বাংলাদেশের কিছুই করার নেই, বড়ো জোর প্রতিবাদ করা ছাড়া। এক্ষেত্রে কোন কিছু করতে তাদের আইনতঃ বাধ্য করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় বরং বাংলাদেশের উচিত সতর্ক থাকা।
যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই নতুন ভিসা নীতি দিয়েছে, তা গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ ও মেনে চলাই উত্তম বাংলাদেশের জন্য। কারণ এর লক্ষ্য যে কোন বিচারেই সঠিক ও মানবিক। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, যে কোন দেশ তার দেশের স্বার্থে এ ধরণের ভিসা নীতি প্রয়োগ করার অধিকারী। এমনকি বাংলাদেশও যদি এ ধরনের কোন ভিসা নীতি প্রণয়ন করে বলে যে, যেসব দেশ তাদের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ও মানবিক পন্থা অবলম্বন করবে না, সেসব দেশের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা জনগণকে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ভিসা দেবে না, এতে বাধা দেবার ক্ষমতা বা নৈতিকতা কোন দেশেরই নেই। ক্ষুব্ধ হলে তারা এ ধরনের পাল্টা কোন ভিসা নীতি বা আইন প্রণয়ন করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রণীত এই ভিসা নীতির ওপর হাত দেয়ার ক্ষমতা কারো থাকবে না। এসব বিবেচনায় নতুন ভিসা নীতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ বা এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ার না করে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন মহলসহ জনগণের উচিত এই যৌক্তিক ও মানবিক নীতিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে কোন কিছুই না করা, এ বিষয়ে সতর্ক থাকা। সতর্ক থাকার প্রয়োজন ও দায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের শতগুণ বেশী। সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌক্তিক ও মানবিক নতুন ভিসা নীতির বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা কিংবা এর বিরোধিতা নির্বাচনে অপকর্মকারী বা অপকর্মের পরিকল্পনাকারীদের পক্ষাবলম্বন ও প্রশ্রয় দান ছাড়া আর কিছুই নয়, এমন অভিমত সচেতন মহলের।




