ভিসা নীতির ভ্যাকসিন!
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জুলাই ২০২৩, ১২:৩০:৫৩ অপরাহ্ন
গণতন্ত্রকামী ও মানবাধিকারপন্থী দেশগুলো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি কাজ করতে শুরু করেছে। এর প্রত্যক্ষ সুফল পেতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এর প্রমাণ সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের একটি বক্তব্য। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেনেট ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা টেরি এল ইসলের নেতৃত্বে চার সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার প্রবেশপথে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে গত শনিবারের সহিংসতার ঘটনায় সাত শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে সহিংসতায় যাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে না, তাদেরকে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের গত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুগপৎ অভাবনীয় ও অভূতপূর্ব। অভাবনীয় ও অভূতপূর্ব এজন্য যে, বিগত বছরগুলোতে বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ বিশেষভাবে বিএনপি’র আটক নেতাকর্মীসহ অন্যান্য অসংখ্য নেতাকর্মী আটক করা হলে কিংবা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হলে নির্বিচারে তাদের জেল হাজতে আটক রাখা হয়েছে। গায়েবী মামলা নামক অনির্দিষ্ট ও ভৌতিক মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলীয় লাখ লাখ নেতা কর্মীকে আটক বা তাদের বিরুদ্ধে সমন জারির ঘটনা ঘটেছে বিগত বছরগুলোতে। এসব মিথ্যা ও গায়েবী মামলায় মৃত মানুষকে আসামী করা হয়েছে। জামিনযোগ্য হলেও জামিন না দিয়ে আটককৃত ব্যক্তিদের আটকে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশ ও আদালত যৌথভাবে সরকারের গৃহীত নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুসরণ করেছে। উপেক্ষা করা হয়েছে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। গত ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর দ্য ডেইলী স্টার পত্রিকায় ‘মরে গিয়েও রেহাই নেই’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন দেড় বছর আগে, এক বছর আগে মনসুর আলী ও তার ৬ মাস পর জিল্লুর রহমান। কিন্তু তারপরও তাদের বিরুদ্ধে যানবাহন ভাংচুর ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলা দিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ৩ জন ছাড়াও গত কয়েক মাসে রাজধানীর চকবাজার, কেরানীগঞ্জ ও যশোরে একজন করে এবং হবিগঞ্জে ২ জন সহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা দেয়া হয়, যারা বহু আগেই মারা গেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ডয়েচে ভেলে ‘গায়েবি, মিথ্যা ও অজ্ঞাত পরিচয় মামলা’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল অপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে একটি রীটের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন থানায় বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৭৩৬ টি গায়েবি মামলা দায়ের করেছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৩০ জনকে। আর অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে কয়েক হাজার জনকে।
বলা বাহুল্য, ইতোমধ্যে বেশ কয়েক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে উপরোক্ত ঘটনাগুলোর পর। গত কয়েক বছরে আরো বহু লোককে এভাবে মিথ্যা ও গায়েবী মামলার আসামী করা হয়েছে যেগুলোর প্রায় সব ক’টিই বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উল্লেখিত বক্তব্য অনুযায়ী যদি এ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়, তবে তা আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার সর্বোপরি সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত হবে। আমরা এটাকে স্বাগত জানাচ্ছি।




