এমন বাগাড়ম্বরের রহস্য কী?
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩২:৩৩ অপরাহ্ন

সম্প্রতি ইংরেজী মিডিয়া ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এ ‘বাংলাদেশ র্যাংকস অ্যাজ ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং ইকোনমি ইন অ্যাকিয়া-প্যাসিফিক’ (বাংলাদেশ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক কর্তৃক প্রকাশিত একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চার পর্বে লেখা এই রিপোর্টের প্রথম পর্বে বলা হয়েছে যে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩২ টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল দেশ হিসেবে স্থানলাভ করেছে। বাংলাদেশের পরেই আছে ভিয়েতনাম। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক্স গত জুনে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১০ বছরের জিডিপি’র বার্ষিক গড় বৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশের এই অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। বাংলাদেশের এই বার্ষিক কম্পাউন্ড প্রবৃদ্ধি গত ১০, ৫ ও ৩ বছরে যথাক্রমে ৯.১, ৯.৪ ও ৮.৫ শতাংশ ছিলো।
দেশের অর্থনীতিবিদরা এই ডাটা বা পরিসংখ্যানকে ‘আশা সঞ্চারি’ বললেও এর বিশ্বস্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশের জিডিপি এই ইংগিত প্রদান করে যে, এই অর্থনীতি সরকারী হিসাবের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বড়ো এবং এশিয়া-প্রশান্ত ‘মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১০ম এবং বিশ্বে ২৫তম সর্ববৃহৎ জিডিপি।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক্সের এই উপস্থাপনা অতিরিক্ত বাগাড়ম্বরপূর্ণ। বাস্তবে যদি তাই হয়ে থাকে, তবে তা বাংলাদেশের জন্য ভালো সংবাদ। তিনি আরো বলেন, তারা কীভাবে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হিসাব করলেন জানি না, যখন সরকার বলছে প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৭.৯ শতাংশ। তাও শুধু কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি লক্ষণীয়, শ্রমবাজার ক্রমশঃ সংকুচিত হয়ে আসছে। ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অসম্ভব বলে আমি মনে করি।
লক্ষণীয় যে, ইতোপূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অর্থনৈতিক সংস্থা এবং অনেক অর্থনীতিবিদকে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভারত চীন তো বটে অনেক ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের অনেক উন্নত ও ধনী দেশের চেযেও বেশী সমৃদ্ধ বলে বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে। এমনকি বাংলাদেশ জিডিপি’র দিক দিয়ে কানাডা ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে দেশের ক্ষমতাসীন মহল ছাড়াও সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোকে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। মাত্র বছর খানেক এমনকি ৬ মাস আগেও এদেশের ক্ষমতাসীন নেতানেত্রীরাও দাবি করেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে কিংবা উন্নয়নের রোল মডেল।
দাবি করা হয়েছে, দেশটি উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। যখন এসব বলা বা দাবি করা হচ্ছিলো, তখনো দেশে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি বিদ্যমান এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা ছিলো মুশকিল। আর বর্তমানে এ আস্থার আরো অবনতি ঘটেছে, যখন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক্সের এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এখন দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট তথা লোডশেডিং চলছে। কলকারখানায় বিঘিœত হচ্ছে উৎপাদন, ব্যাঘাত ঘটছে ব্যবসা বাণিজ্যে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন কেনো এসব বাগাড়ম্বরপূর্ণ মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করছে? কেউ কি এগুলো প্রকাশ করাচ্ছে তাদের দিয়ে? এমন প্রশ্ন এখন এদেশের সচেতন মহলে জাগছে।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের ইতোপূর্বে জিডিপি’র মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের এদেশের ক্ষমতাসীন নেতানেত্রীরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে কিংবা উন্নয়নের রোল মডেল। দাবি করা হয়েছে, দেশটি উন্নয়নের মহাসড়]কে এগিয়ে যাচ্ছে। যখন এসব ব লা বা দাবি করা হচ্ছিলো, তখনো দেশে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি বিদ্যমান এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা ছিলো মুশকিল। আর বর্তমানে এ অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে, যখন ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক্সের এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এখন দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট তথা লোডশেডিং চলছে। কলকারখানায় বিঘিœত হচ্ছে উৎপাদন, ব্যাঘাত ঘটছে ব্যবসা বাণিজ্যে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন কেনো এসব বাগাড়ম্বরপূর্ণ মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করছে কেউ কি এগুলো প্রকাশ করাচ্ছে তাদের দিয়ে? এমন প্রশ্ন এখন এদেশের সচেতন মহলে জাগছে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের ইতোপূর্বে জিডিপি’র মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের রিজার্ভ নিয়েও লুকোচুরি খেলতে দেখা গেছে। তাই অনেকের সন্দেহ নিজেদের সাফল্য প্রচার ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার অপচেষ্টা থেকেই এসব করা বা করানো হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিক ও এর সঠিক চিত্রের জন্য ক্ষতিকর।




