আসছে বিদ্যুৎ চালিত যানবাহন
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩০:৪৯ অপরাহ্ন
বিগত বছরগুলোতে দেশে অটোরিকশাসহ সিএনজিচালিত অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার এর সংখ্যা হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ সিএনজি যানবাহন তুলে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, যানবাহনের জ্বালানী হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস নীতি থেকে সরে এসে বিদ্যুৎকে প্রাধান্য দেয়ার ফলে দেশে সিএনজিচালিত গাড়ি সংখ্যা ইতোমধ্যে হ্রাস পেতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (সিএনজি) বলেন, জ্বালানীর লভ্যতা ও সহজপ্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে মানুষ যানবাহন ব্যবহার করে। সিএনজি চালিত যানবাহন কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো কাজ করতে পারে। একইভাবে সরকারও নীতিগতভাবে যানবাহনের জ্বালানী তেল বা গ্যাসের বদলে বিদ্যুৎকে প্রাধান্য দিচ্ছে। অন্যদিকে গাড়ির জ্বালানী প্রযুক্তিও বদলে যাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানীর বদলে গুরুত্ব পাচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানী। সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে আরপিজিএল’র কোন উদ্যোগ বা ভবিষ্যত পরিকল্পনা নেই।
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত জ্বালানী তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং পরিবহন খাতের দূষণ রোধে দেশে শুরু হয় সিএনজিচালিত যানবাহনের ব্যবহার। দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্থাপন ও যানবাহন সিএনজিতে রূপান্তরের জন্য কারখানা গড়ে তুলতে নীতি প্রনোদনা দিয়ে সহায়তা করে সরকার। সরকারী নীতি প্রনোদনা আর বেসরকারী বিনিয়োগে ভর করে পরিবহন খাতে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে সিএনজিচালিত গাড়ি। আমদানি ও রূপান্তরিত মিলে দেশে সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। যদিও বর্তমানে সিএনজি পরিবহন খাতে দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। প্রতিনিয়ত কমছে যানবাহনের সংখ্যা। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক রূপান্তর কারখানা। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট, হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎচালিত যানবাহনে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। আরপিজিসিএল এর তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে দেশে সিএনজিচালিত যানবাহন ছিলো ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৬৪টি। এর মধ্যে দেশে রূপান্তরিত যানবাহনের সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৭০ হাজার ২৩৯ টি। সিএনজি ফুয়েল ব্যবস্থা সম্বলিত আমদানিকৃত যানবাহন ছিলো ৪০ হাজার ৩৮৩ টি, সিএনজিচালিত থ্রি হুইলারের সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২। গত বছরের এপ্রিলে বিআরটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, দেশে সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪০। এর মধ্যে অটোরিকশা রয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৩৫৬ টি। আরপিজিএল এবং বিআরটি’র তথ্য বিশ্লেষনে দেখা গেছে, তিন বছরের ব্যবধানে দেশে ব্যাটারি চালিত গাড়ির সংখ্যা কমেছে অর্ধেকেরও বেশী। সিএনজিচালিত গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে রূপান্তরকরণ কারখানার সংখ্যাও। কার্যক্রম গ্রহণ করতে না পারায় ১২১ টি ‘সিএনজি কনভারশন ওয়ার্কশপ’ এর অনুমোদন বাতিল করেছে আরপিজিসিএল। বর্তমানে সক্রিয় রূপান্তরকরণ কারখানা রয়েছে ৫৯টি। বলা বাহুল্য, সিএনজি চালিত যানবাহন চালুর মূল লক্ষ্য ছিলো যানবাহনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানীকৃত জ্বালানী তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা। এজন্য সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপন, পেট্রোল ও ডিজেলচালিত যানবাহন সিএনজিতে রূপান্তরের জন্য ‘কিট’ ও সিলিন্ডার আমদানি, ভাসমান বার্জ মাউন্টেড সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। এভাবে দেশে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা। বর্তমানে জ্বালানী সংকট ও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানী বন্ধের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ জিরোতে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কাজ শুরু করেছে। জোর দিচ্ছে যানবাহনগুলোকে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনে রূপান্তরের। তবে এক্ষেত্রে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, তা হচ্ছে, যানবাহনে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে তা যেনো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে যদি সেই সিএনজি কিংবা ডিজেল পেট্রোল ইত্যাদি জ্বালানী ব্যবহার করতে হয়, তবে প্রকৃতপক্ষে কাংখিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। জ্বালানী সংকট যেমন থেকে যাবে তেমনি কার্বন নিঃসরণও বন্ধ হবে না। অর্থাৎ পরিবেশ দূষণের কোন উন্নতি হবে না। আমাদের প্রত্যাশা বিদ্যুৎচালিত যানবাহন অধিক হারে চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ এক সময় বিশ্বে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সাথে দেশের জ্বালানী সংকট মোকাবেলায়ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




