একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩০:৫৩ অপরাহ্ন
গতকাল একটি মিডিয়ায় ‘মনু নদীর পাড়ে ১০ কোটি টাকার পর্যটন কেন্দ্র’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পৌরবাসীর চিত্ত বিনোদনের জন্য মৌলভীবাজার শহরের মনু নদীর পাড়ে শান্তিবাগ রিভারভিউ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে আকর্ষণীয় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত এ পর্যটন কেন্দ্রের শতভাগ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এটিকে ফুলের গাছ দিয়ে আরও সাজানোর পর সেপ্টেম্বর মাসে উদ্বোধনের কথা জানিয়েছেন পৌর মেয়র।
লক্ষনীয় যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গড়ে উঠা পর্যটন শহর মৌলভীবাজার। তবে এ জেলা শহরের ১ লাখ ২৫ হাজার পৌরবাসীর একটু অবকাশ যাপন বা চিত্তবিনোদনের ছিলো না কোন ব্যবস্থা। এতে দীর্ঘদিন ধরে একটি পার্ক বা অবকাশ যাপনরে একটি কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি ছিলো পৌরবাসীর। শেষ পর্যন্ত মৌলভীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে এডিবি, অপিট ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় মনু নদীর পাড়ে শান্তিবাগ এলাকায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত মনু রিভারভিউ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এই রিভারভিউ পর্যটন কেন্দ্রে হাঁটাচলার জন্য রয়েছে সুপ্রশস্ত ৬০০ মিটার ওয়াকওয়ে, দৃষ্টিনন্দন একাধিক বসার স্থান, দর্শনার্থীদের খাবারের সুব্যবস্থায় আধুনিক মানের একটি ক্যাফেটেরিয়া।
বলা বাহুল্য, সিলেট বিভাগ তথা সিলেট অঞ্চল পর্যটন এলাকা হিসেবে দেশ-বিদেশে বেশ পরিচিত। যদিও সরকারী কিংবা বেসরকারী পর্যায়ে এই অঞ্চলকে উপস্থাপনের যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া হয়নি, তবুও এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের কথা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে, বিশেষভাবে বাংলাভাষী লোকজনের কাছে সুবিদিত। মৌলভীবাজারের পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনু নদীর তীরে যে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। স্থানীয় দর্শনার্থীরা এখানে এসে যেমন অবকাশ বা বিনোদনের সুযোগ পাবেন তেমনি সিলেট অঞ্চলের অন্যান্য এলাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন এসে আনন্দ উপভোগের সুযোগ পাবেন। এই সুবাদে বেশ রাজস্ব আয় হবে। স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যে পড়বে ইতিবাচক প্রভাব।
এছাড়া এই পর্যটন কেন্দ্রকে দেশের বাইরের পর্যটক-দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরা হলে কেন্দ্রটি বিদেশী পর্যটক ও আকর্ষণে সক্ষম হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদনদী, খাল-বিল ও হাওরের সৌন্দর্য পর্যটন জগতে একটি অনন্য অনুসঙ্গ বা উপকরণ। এশিয়ার অনেক দেশেই এটা নেই। অনেক দেশে পাহাড় পর্বতের ভিন্ন সৌন্দর্য থাকলেও নদী নালা খাল বিল হাওরের সাথে এগুলোর কোন তুলনাই হয় না। এই অনন্য উপকরণকে আমরা সহজেই কাজে লাগাতে পারি। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা এমনকি উপজেলায় এভাবে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে অভ্যন্তরীন দর্শনার্থীদের অবকাশ ও বিনোদনে যেমন সহায়ক হবে, তেমনি দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও বিদেশী পর্যটক দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে চাঙ্গা হবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে জাতীয় অর্থনীতি। আমরা এদিকে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি ও মনোযোগ আকর্ষণ করছি।




