রাজনীতিতে পণ্য মূল্য
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৩০:৪০ অপরাহ্ন

কথায় আছে, চালের দাম এদেশের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। কথাটি মিথ্যে নয়, চালসহ অন্যান্য নিত্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেলে এদেশের ক্ষমতাসীদের রাজনীতি অস্থির ও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠতে দেখা গেছে অতীতে। অনেকে ক্ষমতাও হারিয়েছেন এই কারণে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশে^র স্বল্পোন্নত দেশগুলো ছাড়িয়ে এটা সত্য হয়ে ওঠেছে উন্নত বিশে^র দেশ ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও। সম্প্রতি এক জরীপে দেখা গেছে, শুধুমাত্র মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে ক্ষমতাসীন ঋষি সুনাকের রক্ষণশীল দলের জনপ্রিয়তা মারাত্বকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে লেবার পার্টির কাছে তাদের গো-হারা হারতে হবে আগামী সাধারণ নির্বাচনে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ঋষি সুনাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে এর অর্ধেকে নামিয়ে আনবেন কিন্তু গত ক’মাসে এক্ষেত্রে তেমন কোন সফলতা প্রদর্শন করতে পারেননি তিনি। ফলে দেশের সিংহভাগ মানুষ রীতিমতো ক্ষুদ্ধ ও বিরক্ত তার ওপর। রক্ষণশীল দলের অন্যান্য সাফল্যকে তারা এতোটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
সম্প্রতি এদেশের সরকার প্রধান বলেছেন, তার দল আবার ক্ষমতায় এলে দেশে কাঁচা রাস্তা থাকবে না। তার এসব বক্তব্য যে সিংহভাগ এদেশের মানুষ উল্লাসিত চিত্তে গ্রহণ করবে এবং এ কথায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠবে, এমনটি প্রত্যাশা করা যায় না। দেশে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি যখন ১০ শতাংশের কাছাকাছি, তখন দ্রব্যমূল্য কমানোর ঘোষণা দিলে সাধারণ জনতা তাকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানাতো, কারণ এ মুহুর্তে সাধারণ সীমিত আয়ের কোটি কোটি মানুষ মূল্যস্ফীতির ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে বহু সেতু, রাস্তা-ঘাট ও টানেল নির্মিত হলেও কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির জন্য তেমন কোন বড় প্রকল্প নেয়া হয়নি। নেয়া হয়নি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোন পরিকল্পিত স্বল্প কিংবা দীর্ঘ মেয়াদী কোন প্রকল্প। অথচ ক্ষমতাসীন দল দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানো এবং ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো। দেশে এখন কোটি কোটি শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার তরুণ যুবক হণ্যে হয়ে কর্মসংস্থানও চাকুরীর সন্ধান করছে। বেকারত্ব মূল্যস্ফীতির মতোই আকাশচুম্বী।
এদেশের সাথে উপরোক্ত ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুণগত বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। তারা প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সমালোচনা করছে। ব্রিটেনের জনগণের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন বিশেষভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে না পারলে ঋষি সুনাক ও তার দলকে হয়তো পরাজিত হতে হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে। আর বাংলাদেশে যদি একইভাবে ব্যবসায় সিন্ডিকেটিং বন্ধ করে চালসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে ক্ষমতাসীন দল, তবে শত উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এবং হাজারো সেতু, পাকা রাস্তা ও সুড়ঙ্গপথ তৈরী করেও বৃহত্তর জনগণের অবস্থা ও সমর্থন লাভে যে সক্ষম হবে না, এ কথা নির্দ্ধিধায় বলা যায়।



