টার্গেট কেনো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল?
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৩০:৪১ অপরাহ্ন
দেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে নিবন্ধন হালনাগাদ ও নবায়ন করতে ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। সম্প্রতি এ নিয়ে নির্দেশনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠিও দেয়া হয়েছে।
ঢাকা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সময়সীমার মধ্যে নিবন্ধন বা নিবন্ধন নবায়ন করা না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাময়িক নিবন্ধন বা নিবন্ধন প্রত্যাহার করা হবে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, বেসরকারী স্কুল সমূহের রেজিস্ট্রেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিদেশী কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারী নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যিমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অর্থাৎ জুনিয়র ক্যামব্রিজ, ক্যামব্রিজ (ও লেভেল) এবং সিনিয়র ক্যামব্রিজ (এ লেভেল) প্রতিষ্ঠান, যা সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে নিবন্ধন করতে হবে। একই বিধিমালার ৩ নং ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া বিদেশী কারিকুলামে পরিচালিত কোন বেসরকারী স্কুল স্থাপন বা প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত হতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ইআরআইএন নম্বর অনুযায়ী ফী প্রদান, বিধিমালা নিবন্ধন, সনদের শর্ত মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি গঠন, মাসিক বা বছরে শ্রেণীভেদে আদায়কৃত টিউশন ফী, ভর্তি ফী, খেলাধুলা ফী, টিফিন ফী, মুদ্রণ ফী এবং অন্যান্য ফী এর পরিমাণ ও বিবরণ ইত্যাদি বিষয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিকট উল্লেখপূর্বক অবহিত করার বিধান অনুযায়ী তা প্রতিপালনেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৩৯টি। এর মধ্যে ও লেভেল এবং এ লেভেলের সংখ্যা যথাক্রমে ৩০ এবং ৯২টি। এছাড়া জুনিয়র স্কুল রয়েছে ১৫টি। তবে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএমএসএবি) হিসেবে বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা ৩৫০ টিরও বেশী আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশী।
উল্লেখ্য, কয়েক যুগ আগে এদেশে উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের উন্নত তথা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দেয়ার জন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এসব স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবারের। নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীও নেহায়েত কম নয়। সন্তানের উন্নত ভবিষ্যতের কথা ভেবে মধ্যবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক টানাপোড়েন সত্বেও তারা তা করছেন।
বিগত এক/দেড়যুগ ধরে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষভাবে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেবাস ও কোর্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন বিভ্রান্তির শিকার তেমনি অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষিকাও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে জটিলতার মধ্যে নিপতিত। এছাড়া বিগত করোনা মহামারির ফলে দেশের বহু বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বর্তমানে এদেশের বহু শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠতে দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু হঠাৎ করে বোর্ড থেকে নানা নিয়মনীতির নির্দেশনা জারি করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে শংকিত করে তোলা হয়েছে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ দেশের সকল স্কুল নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিয়ম নীতির মধ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত, এতে কোন সন্দেহ বা দ্বিমত থাকা উচিত নয়। তবে এমন কোন পদক্ষেপ নেয়া উচিত নয়, যা এদেশের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সংকট ও জটিলতার দিকে ঠেলে দেবে। আমরা মনে করি, বিকল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠা পর্যন্ত এদেশের ব্যিমান কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেনো বন্ধ না হয়। কারণ সরকারী স্কুলের অবনতিশীল শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার এই সংকটসময় সময়ে নিয়ম নীতির অজুহাতে শিক্ষা দানকারী কোন প্রতিষ্ঠানই যেনো বন্ধ না হয়, এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। নিয়ম নীতি প্রতিপালনের মাধ্যমে শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের দিতে হবে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ।




