পাপের ফল প্রায়শ্চিত্তে যায়
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৫:২৮ অপরাহ্ন

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘ইসরাইলে পাল্টা আঘাতে তৈরী হচ্ছে গোপন বাহিনী ‘আরব গেরিলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ফেললেও ইসরাইলকে ঘোরতর চিন্তায় ফেলেছে নতুন সংকট। ইসরাইল ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সিআইএ জানতে পেরেছে, গাজা, বৈরুত ও তেহরানে হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের ইসলামপন্থী গ্রুপের একাংশ একটি গোপন বাহিনী তৈরী করছে। সত্তরের দশকে এ ধরনের বাহিনীর সূত্রপাত হয়েছিলো। ১৯৮৩ এবং ১৯৮২ সালে ইসরাইলকে নাস্তেনাবুদ করেছিলো তার অতর্কিত আক্রমণে। যারা সম্মিলিতভাবে নাম ধারণ করেছিলো ‘আরব গেরিলা’। হামাস ইসরাইলের কাছে চেনা প্রতিপক্ষ হলেও, আরব গেরিলার উত্থান তাদের কাছে সব থেকে ভীতিপ্রদ। কারণ আরব গেরিলাদের কাজই ছিলো ইসরাইলে গোপনে প্রবেশ করে অথবা বিশ্বের যে কোন প্রান্তে খুঁজে খুঁজে ইহুদীদের টার্গেট করা। সুতরাং আবার গোপন ইহুদী নিধন এবং অপহরণের আশংকা করছে ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা শিনবেত। যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ‘আরব গেরিলা বাহিনীর পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিয়েছে ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ সংগঠন ও তাদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলো।
বলা বাহুল্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ফ্রন্টে প্রচন্ড মার খাচ্ছে ইসরাইলী বাহিনী। বিমান হামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অনেক শীর্ষ নেতা এমনকি ইরানের একাধিক নেতা জেনারেলকে হত্যা করতে সক্ষম হলেও ইসরাইলী সেনাবাহিনী কোনভাবেই দমাতে পারছে না ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের। কিছুদিন আগে ইরান ইসরাইলে যে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এতে রীতিমতো হতবাক ইসরাইল। এতে ধারণারও বাইরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইসরাইলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার। সবচেয়ে বড় কথা, এক বছর ধরে দেশটির স্বাভাবিক কর্মকান্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেকটা অকার্যকর হয়ে আছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, ব্যবসা বাণিজ্য বিমান চলাচলসহ সবকিছু। এর সাথে সম্প্রতি যোগ হয়েছে আরব গেরিলা বাহিনীর আতংক।
বলা বাহুল্য, ইরানের অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক মিসাইল ইসরাইলের গর্বের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যর্থ ও বিপর্যস্ত করে দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। এ অবস্থায় ইসরাইলকে ৪টি ফ্রন্টে লড়তে হচ্ছে। হামাস ও হিজবুল্লাহ ছাড়াও ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ বাহিনী এবং ইরাকের প্রতিরোধ সংগঠন ও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত সামরিক সহায়তা সত্বেও ইসরাইল বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর অধিকাংশ সরকার ইসরাইলের এসব কর্মকান্ডকে সমর্থন করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও তাদের বিবেকবান জনগণ ফিলিস্তিনীর সমর্থন দিচ্ছেন ব্যাপকভাবে। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা শুধুই বাড়ছে। ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইলের গণহত্যা বিশ্বব্যাপী নিন্দিত হচ্ছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালত ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা দেশের বিরোধিতার কারণে। কিন্তু এতেও ইসরাইলের বিপদ কমেনি বরং বাড়ছে। পশ্চিম তীরের নিরপেক্ষ ধরনের ফিলিস্তিনীরাও যুক্ত হচ্ছে হামাসের সাথে প্রতিরোধ যুদ্ধে। হামাস অনেকটা গেরিলা পদ্ধতিতে ইসরাইলে বিরোধী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইসরাইল পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহকে পরাজিত করতে সমর্থ হলেও, এসব যোদ্ধা যে গেরিলা যুদ্ধের আশ্রয় নেবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর তাদের সাথে ‘আরব গেরিলা’ সংগঠন যোগ দেবে, এটাই স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে ইসরাইলের দুর্ভোগ ও দুর্গতি না কমে বরং বাড়ার সম্ভাবনাই বেশী। কথায় আছে, পাপের ফল প্রায়শ্চিত্তে যায়। বিগত ৭৬ বছরের পাপের ফল অবশ্যই ভোগ করতে হবে এই দুর্বৃত্ত অবৈধ হানাদার দেশটিকে, এমন অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।




