চাল নিয়ে কিছু কথা
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন

চালের সরবরাহ বাড়াতে আমদানি শুল্ক ও রেগুলেটরী শুল্ক হ্রাস এবং আগাম কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ২০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চাল আমদানির ওপর ওপর বিদ্যমান ৫০ শতাংশ শুল্কের মধ্যে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। সরকারের রাজস্ব বিভাগের এই পদক্ষেপটি প্রশংসনীয়। বাজারে দেশের প্রধান খাদ্য চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম কমার কোন লক্ষণ নেই বরং বেশীর ভাগ পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখী, তখন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এনবিআর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুল্ক কর কমানোর ফলে আমদানি পর্যায়ে চাল আমদানির ব্যয় প্রতি কেজিতে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা কমবে। এতে আরো বলা হয়, আমদানি শুল্ক ও রেগুলেটরী শুল্ক হ্রাস এবং আগাম কর প্রত্যাহারের ফলে বাজারে চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, দেশের আপামর জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং চালের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।
বলা বাহুল্য, চালের বাজার দুই মাস ধরেই অতিরিক্ত চড়া। সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে গত এক মাসে। এখানে উল্লেখ্য যে, চালের দাম গত ২/৩ বছর যাবৎ চড়া। কিন্তু সম্প্রতি এটা আরো বেড়েছে চালের দাম। এজন্য অসৎ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের দায়ী করা হচ্ছে। দায়ী করা হচ্ছে আমদানিকারকেরও। বিশেষভাবে চালকল মালিকদের কারসাজিকে দায়ী করা হচ্ছে বেশীরভাগ মহল থেকে।
গত জানুয়ারির দিকে প্রকাশিত মিডিয়ায় একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আমনের ভালো ফলন হওয়া, সরকারী গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকা এবং সরবরাহে কোন ঘাটতি না থাকা সত্বেও চালের বাজারের অস্থিরতার বিষয়টি উদ্বেগজনক। নির্বাচনের পর মিল পর্যায়ে কারসাজি করে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম সর্বোচ্চ ৩শ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সারাদেশের পাইকারি বাজারে হু হু করে বেড়ে গেছে এর দাম। এর প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজারেও আড়তদাররাও চালের মূল্যবৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের দায়ী করছেন। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পরও চালের দাম না কমে আরেক দফা বেড়েছে, যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সচেতন মহলের অভিমত, চালের শুল্ক কমানোর পরও আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা যাতে সিন্ডিকেট না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ অতীতে দেখা গেছে, সরকার শুল্ক কমালেও এর সুফল পাননি ভোক্তা ক্রেতারা। মাঝখান থেকে লাভবান হয়েছে আমদানিকারক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এ অবস্থায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দমনসহ খুচরো বাজারে চালের মূল্য মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। এর পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বৈরশাসকের দোসরদের চালকলগুলোও খুলে দেয়া দরকার। আশাকরি কর্তৃপক্ষ তথা সরকার অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি ও মনোযোগ দেবেন।




