সিলেটে আমনে বাম্পার ফলন
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৫:১৪ অপরাহ্ন
৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮০১ হেক্টর আবাদ , ১১ লক্ষ ৬৩ হাজার মে. টন চালের লক্ষ্যমাত্রা

এমজেএইচ জামিল :
অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সুবাস আর কৃষকের মুখে খুশির হাসি।
এবার সিলেটে আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। ছিল না অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি কিংবা দুর্যোগ। পোকামাকড়ের আক্রমণও ছিল কম। শেষ সময়ে জমিতে পাকা ধানের শিষ দেখে কৃষকরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে ধান কাটা। কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো বিভাগে শুরু হবে ধান কাটার ধুম।
সিলেট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে এবছর রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ১৯০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮০১ হেক্টর। এবার বিভাগে মোট ১১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার ফলন ভালো হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষক ও কৃষি বিভাগের।
সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার সিলেট জেলায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ করা হয় ১ লক্ষ ৪৫ ৯২০ হেক্টর। এতে চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। সময় মতো বিশেষ করে শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় সিলেট জেলায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় ইতোমধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। তবে পুরোপুরি শুরু হতে আরো সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর জেলায় ৮৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ করা হয় ৮২ হাজার ৬৫৬ হেক্টর জমি। জেলায় চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ১৭ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন।
জেলায় এবার আমন ধানের ফলন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় ও সময়মতো ধান কাটা শুরু হওয়ায় মাঠে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকের। তবে ধানের শীষে চিটা, পোকা আক্রমণে ফলন কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। এদিকে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ও উৎপাদন খরচ না উঠায় কেউ কেউ হতাশ হয়ে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বিলম্বে আবাদ এবং বয়স্ক চারা রোপণ করার কারণে অনেক কৃষকের ফলন কম হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মওসুমে জেলায় ৯৮ হাজার ৩৫ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ করা হয় ৯৮ হাজার ২০ হেক্টর। এতে চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ লক্ষ ৯১ হাজার ১৬৩ মেট্রিক টন।
মৌলভীবাজারে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষক। জেলাটিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও থাকায় জমিতে পাকা ধানের শিষ দেখে কৃষকরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে ধান কাটা শুরু হলেও মৌসুম শুরু হতে আরে কয়েকদিন অপেক্ষা করা লাগবে।
হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ৯০ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ করা হয় ৯০ হাজার ২০৫ হেক্টর জমি। এসব জমি থেকে এবার ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন কৃষক ও জেলার কৃষি বিভাগ।
আমনের ফলনের ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন খোসবাস গ্রামের কৃষক মো. শাকির আহমদ বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার তীব্র আশংকা নিয়ে আমন চাষ করি। কারণ প্রতি বছরই ফসল ঘরে তোলার মূহুর্তে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এবারও এ আশঙ্কা করছিলাম। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের যথাযথ উদ্যোগের কারণে কৃষককুলের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। আমার জমিতে প্রতি কেয়ারে ১৫-২০ মন ধান পাব বলে আশা করছি।
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রামপুর গ্রামের জিহাদ মিয়া বলেন, এবছর সাড়ে তিন কেয়ার জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। ব্রি- ২২ জাতের ধান রোপণ করেছি। ফলন ভালো হয়নি। এই সাড়ে তিন কেয়ার জমিতে ১০ মণ করে ৩৫ মণ ধান হবে। গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক কম হয়েছে।
এবারের আমনের ফলন নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মোঃ শামসুজ্জামান দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, সিলেট বিভাগে এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার অনাবৃষ্টি কিংবা অতিবৃষ্টি ছিলনা। এছাড়া শেষ দিকে বৃষ্টির ফলে ধানের চারা খুবই উপকৃত হয়েছে। ফলে ফলনও ভালো হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরো বেশী চাল উৎপাদন হবে।





