বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন কেমুসাস থেকেই সূচিত হয়েছে : কবি আবদুল হাই শিকদার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৩৫:১৪ অপরাহ্ন

দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ থেকেই সূচিত হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের জন্য প্রথম যে সভাটি হয়েছিল, সেটি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ আয়োজন করেছিল। তাই কেমুসাসকে পাশ কাটিয়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। আমাদের জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মাঝে যে দুর্যোগ চলছে, এজন্য লেখকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। কালচারাল হেজিমনিকে মোকাবেলা করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের কালচারাল পলিসি ঠিক করতে পারবো।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-এর উদ্যোগে ষোড়শ কেমুসাস সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শনিবার দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন সন্ধ্যায় কেমুসাস শহিদ সোলেমান হলে অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানের সভাপতিত্বে এবং আল ইসলাহ সম্পাদক, সম্মেলন উদযাপন উপকমিটির সদস্যসচিব আহমদ মাহবুব ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. রিজাউল ইসলাম, কেমুসাস সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত কবি ও কথাসাহিত্যিক সোলায়মান আহসান। ‘সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বিনির্মাণে সিলেটি নাগরীলিপির ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক মোস্তফা সেলিম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেমুসাসের সাবেক সভাপতি কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেমুসাসের কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সম্মেলন উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক কবি কামাল তৈয়ব। এবারের সাহিত্য সম্মেলন শেকড়সন্ধানী গবেষক অধ্যাপক মুহম্মদ আসদ্দর আলীকে নিবেদিত করা হয়েছে। নিবেদিত ব্যক্তির পরিচিতি পাঠ করেন সংসদের লাইব্রেরি সম্পাদক নাজমুল আনসারী এবং পুরস্কারে ভূষিত কবি সোলায়মান আহসানের পরিচিতি পাঠ করেন সংসদের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক কামরুল আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কবি ক্বারী আব্দুল বাছিত।
সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন কবি সম্মেলন সকাল এগারোটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এবং এতে অনুষ্ঠানে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ কবিকে পুরস্কৃত করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কেমুসাসের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি আফতাব চৌধুরী এবং বক্তব্য রাখেন সংসদের সাবেক সভাপতি কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী, বর্তমান সহ সভাপতি রুহুল ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। উদ্বোধন উপলক্ষে লেখক ও কবিদের একটি র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। সাহিত্য সম্মেলন উদযাপন উপকমিটির সদস্য ইশরাক জাহান জেলী ও মিনহাজ ফয়সলের যৌথ সঞ্চালনায় কবি সম্মেলনের প্রথম পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ তাজ উদ্দিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. কামাল আহমদ চৌধুরী, মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যকরী পরিষদ সদস্য এম. আতাউর রহমান পীর, কার্যকরী পরিষদ সদস্য ছয়ফুল করিম চৌধুরী হায়াত। সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে কবিকণ্ঠে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কবি-সাহিত্যিকরা কবিতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে কবিদেরকে প্রশংসাপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তি





