জগন্নাথপুরে তিন বছরেও শেষ হয়নি আর্চ সেতুর কাজ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:০৯:৪০ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার তিন বছর অতিবাহিত হলেও সেতুটির কাজ শেষ হয়নি। তৎকালীন সময়ে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে সেতুর পাশে বাঁশের সেতু নির্মাণ করে দিলে সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁশের সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন জনসাধারণ। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। তবে দ্রুতই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।
জানা যায়, প্রায় চার দশক পূর্বে জগন্নাথপুর পৌর শহরের নলজুর নদীর উপর দুটি সরু সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই পুরানো জরাজীর্ণ দুই সেতু দিয়ে নদীর দু-পাড়ের লোকজন ও যানবাহন চলাচল করায় প্রতিদিন যানজটসহ দুর্ঘটনায় পতিত হতো জনসাধারণ ও যানবাহন। সেই সমস্যা নিরসনে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ১৩ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে নলজুর নদীর মধ্যভাগে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১.২৫ মিটার প্রস্থ এই আর্চ সেতুর নির্মাণ কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ভাটি বাংলা এন্টারপ্রাইজ’। রাজধানীর হাতিরঝিলের নকশায় সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের পহেলা মে নির্মাণ কাজটি শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৫ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারের উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণে তা সম্পন্ন হয়নি। দুই দফা বাড়িয়ে গত ৩০ জুন পর্যন্ত কাজের সময় দেয়া হয়। কাজ শেষ না হওয়ায় আবারো সময় বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন।
এদিকে, ডাকবাংলা রোডের নড়বড়ে জরাজীর্ণ সরু সেতু ও হেলিপ্যাড এলাকায় ড্রাইভেশনের বিকল্প সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন জনসাধারণ। ডাকবাংলা রোডের সেতু ও বিকল্প সেতুতে যানজট সৃষ্টি হলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহন ও জনসাধারণ সেতুর উপরেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু নির্মাণ কাজটি দ্রুত সম্পন্নকরণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন উপজেলাবাসী।
ব্যবসায়ী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন বেলাল জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে চলছে। সেতুটির কাজ ধীরগতিতে চলায় বাজারের ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণ ভোগান্তিতে রয়েছেন। তিনি সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।
সেতুটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটার ইফতেখার উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। জগন্নাথপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আবারো সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। এখনো সময় বাড়ানো হয়নি। তবে সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনসাধারণ চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ জানান, সেতুটির ঢালাইয়ের কাজ চলছে। আশা করছি ডিসেম্বরের শেষের দিকে সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হবে।





