সিলেটে ৪ আগস্টের ঘটনায় আরেক মামলা, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানসহ আসামি ১০২
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৪৬:১৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অপসারিত মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ ১০২ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দন্ডবিধি আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দন্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪/১৪৮/১৪৯/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন নগরীর কোতয়ালী থানার বাগবাড়ী বর্ণমালা আবাসিক এলাকার মৃত শায়খ আছদ্দর আলীর ছেলে মুখতার আহমদ (৫৫)।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নগরীর লামাবাজার এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত এই মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০২ নেতাকর্মীর নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৪০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (৫৫), সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (৫৮), সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিক (৬০), সাবেক এমপি রঞ্জিত সরকার (৫৫), সাবেক ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার আজাদুর রহমান আজাদ (৬০), সাবেক ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী রাহেল সিরাজ (৩২), আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাদের মধ্যে থেকে মোঃ খায়রুল ইসলাম (৩১), কালাম হোসেন (৩৪), জাহিদুল ইসলাম (৩৫), আছাদ উদ্দিন (৪৬), বেলাল আহমদ (৪৫), আবুল কাশেম মারুফ (৪৫), মোঃ জামাল উদ্দিন (৩৮), মোঃ বিল্লাল আহমদ (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৪৮), লিটন মিয়া (৩৫), ফয়জুল হক (৩৮), মোঃ আব্দুল গয়াছ (৬০), মোঃ হেলাল আহমদ (৫৫), আল আমিন রহমান (৩৫), সহিদুজ্জামান শিপলু (৩২), মোঃ ইফতেখার ইসলাম (ইফতি) (২২), মিনা বেগম (৪০), মুরাদ হোসেন (৪২), আব্দুল হাই (৫৮), আবু সুফিয়ান সুফি (২৮), আব্দুল গণি (৪০, মোঃ সানাউর রহমান চৌধুরী (৩০), মোঃ ফারুক মিয়া (৫৬), সৈয়দ আহমদ (৬০), আব্দুল গফফার (৪৫), আজিজুল হক শান্ত (৫২), মোঃ ফজলুল রহমান (৬৫), আল মামুন শাহীন (২৮), শাহ মোহাম্মদ বদরুল (৩৫), মোঃ ফয়েজ মিয়া (৩৫), মোঃ আবু তাহের (৫০), মোঃ তাজ উদ্দিন (৫০), মতিন চৌধুরী (৭০), মোঃ জাকারিয়া (৩৮), জুবায়ের আহমদ (২৬), আব্দুস সবুর (৪৫), আবুল কালাম আজাদ (৪৫), আব্দুস সালাম (৫৫), বশির মিয়া (৪৫), আশিক উদ্দিন (৩৫), ময়না মিয়া (৫০), সালাউদ্দিন সালাই (৩৪), মুজিবুর রহমান (৪৫), দুলাল মিয়া (৪০), কামাল আহমদ (৪০), মোঃ ফাহাদ আব্দুল্লাহ (৩০), জাফরুল ইসলাম (৪০), মোঃ ফয়জুল ইসলাম (৪২), মিলন মিয়া (২৬), আলমগীর হোসেন (৪২), বদরুজ্জামান (৫৫), আজাদ মিয়া (৪২), মোঃ মঞ্জু মিয়া (৩৫), আবু তালিব সাজিদ (২৮), ফয়ছল (৩৫), এহসান আহমদ (৩০), ফজলে রাব্বি (ছাদিক) (৩২), নাজিম (৩৮), মোঃ জাহেদ আহমদ (৩৩), নাসির উদ্দিন (৫৫), সিরাজ উদ্দিন লাল মিয়া (৪৫), মোঃ সিতাব আলী (৫০), শাহ মোঃ বদরুল (৩৫), আব্দুল গয়াছ (৪৮), আব্দুল মছব্বির (৫৫), মাস্টার আওলাদ হোসেন (৬৫), হাবিবুর রহমান (৪২), উমর আলী (৩৩), টুটন মিয়া (৪৫), কাদির মিয়া (৩৮), মোঃ নুরুল আমীন (৪৫), সুমন দেব (৩২), মোঃ আব্দুল মুছব্বির (৬০), এমদাদ রহমান (২২), মিজানুর রহমান রকি (২৫), রেদোয়ান (২৭), রাজু (২৮), পাপলু চন্দ (৩৩), মোঃ সিরাজুল হক (৫৮), মিনাজ আহমদ (৩৭), মশাহিদ আলী (৫৫), জালাল (৪০), আব্দুস সালাম (৩৫), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (৫০), আশিক মিয়া (৪৮), হাছন আলী (৪২), আল জাবের আহমদ রুম্মান (২৬), আব্দুল হেকিম (৪২), দুলাল মিয়া (৪২), ফারহানা আক্তার চৌধুরী (৩৫), প্রতাব খান (৩৮), আব্দুল কাইয়ুম (৫২), এস.এম ছমির উদ্দিন উরফে ছুরাব আলী (৫৫)। এছাড়া অজ্ঞাত আসামী আছেন আরও ৩০/৪০ জন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে নগরীর লামাবাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মিছিল বের করে। এ মিছিলে তিনি অংশ নেন। এ সময় ১নং আসামি মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে বন্দুক, কাটা রাইফেল, ককটেল, রামদা, লাঠি ও লোহার রডসহ অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আসামিরা মিছিলে হামলা চালায়। আসামির ছোড়া গুলিতে বাদীসহ অনেকেই আহত হন। বাদীর গায়ে প্রায় ৭৪টি সিটা গুলি লাগে। গুলি ছোড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসামিরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কোতোয়ালী থানায় মামলা না নেয়ায় তিনি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে বাদী আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল গাফ্ফার বলেন- আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআই-কে দায়িত্ব দিয়েছেন।





