বিপিএলে পরাজয়ে শুরু সিলেটের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩৪:৪১ অপরাহ্ন
সেঞ্চুরিতে উদ্বোধনী মঞ্চে নায়ক রাজশাহীর শান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক: টসের সময় মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন, ১৮০ রানের বেশি করতে পারলে ভালো হবে তাদের জন্য। পারভেজ হোসেন ইমনের তাণ্ডবে সিলেট টাইটান্স করল ১৯০ রান। কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেটি অনায়াসেই তাড়া করে ফেলল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেটকে ৮ উইকেটে হারায় রাজশাহী। ১৯১ রানের লক্ষ্য ২ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে শান্তর দল।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে চমৎকার সেঞ্চুরি উপহার দেন শান্ত। ১০ চার ও ৫ ছক্কায় ৬০ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ৫১ রান। দুজন মিলে ৭১ বলে গড়েন ১৩০ রানের ম্যাচ জেতানো জুটি।
অথচ রান তাড়ায় শুরুটা তেমন ভালো ছিল না রাজশাহীর। তৃতীয় ওভারে ড্রেসিংরুমে রুমে ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম (৮ বলে ১০)। পাওয়ার প্লেতে আসে ৪৩ রান।অষ্টম ওভারে আউট হন ১৯ বলে ২০ রান করা রাজশাহীর পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। ১০ ওভারে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৭৯ রান।সেখান থেকে শুরু হয় শান্ত-মুশফিকের পাল্টা আক্রমণ। প্রতি ওভারে বাউন্ডারি মেরে রানের চাহিদা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার। দ্বাদশ ওভারে ৩৬ বলে পূর্ণ হয় শান্তর ফিফটি। দলের সংগ্রহ তখন ৯৯ রান।
শেষ ৮ ওভারে ৯২ রানের সমীকরণে পরপর দুই ওভারে নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের বলে চার ও ছক্কা মারেন শান্ত। পরে ইথান ব্রুকসের বলে ছক্কা মেরে ৫৫ বলে জুটির শতরান পূর্ণ করেন রাজশাহী অধিনায়ক।
পরে অনায়াসে বাকি কাজ শেষ করেন মুশফিক ও শান্ত। শেষ ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরি করেন শান্ত। বিপিএলে এটি তার দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি।এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুর ঝড় তোলেন সাইম আইয়ুব। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাকিস্তানি ওপেনার। ৩ চারের সঙ্গে ২ ছক্কায় ১৫ বলে ২৮ রান করেন তিনি।তিন নম্বরে নেমে আফগানিস্তানের হজরতউল্লাহ জাজাই ২০ রান করতে খেলেন ১৮ বল। আরেক ওপেনার রনি তালুকদারের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ৪১ রান।
১৪তম ওভারের শুরুতে জুটি বাধেন ইমন ও আফিফ। ইনিংসের শেষ ওভারে রান আউটে ভাঙে তাদের বন্ধন। মাঝে দুজন মিলে মাত্র ৪১ বলে যোগ করেন ৮৫ রান।৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মেরে ১৯ বলে ৩৩ রান করেন আফিফ। আর বিপিএল ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও সব মিলিয়ে নবম ফিফটির ইনিংসে ৪টি চারের পাশাপাশি ৫টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা মারেন ইমন। সিলেটের পক্ষে ৩৮ রানে ২ উইকেট নেন নেপালি লেগ স্পিনার সন্দ্বীপ লামিচানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৯০/৫ (সাইম ২৮, রনি ৪১, জাজাই ২০, ইমন ৬৫*, আফিফ ৩৩, ব্রুকস ০; মেহেরব ৪-০-৩৪-০, বিনুরা ৪-০-৩১-১, সাকিব ৪-০-৪৩-১, লামিচানে ৪-০-৩৮-২, সাকলাইন ৩-০-৩৩-০, নাওয়াজ ১-০-৯-০)।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৯.৪ ওভারে ১৯২/২ (সাহিবজাদা ২০, তামিম ১০, শান্ত ১০১*, মুশফিক ৫১*; আমির ৪-০-৩০-০, নাসুম ৪-০-৩৩-০, খালেদ ৩-০-৩০-১, সাইম ১-০-১২-০, রুয়েল ৩.৪-০-৩১-০, মিরাজ ৩-০-৩৯-১, ব্রুকস ১-০-১৫-০)। রফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৮ উইকেটে জয়ী।





