জামালগঞ্জের পাকনা হাওরের গজারিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি । সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সর্ববৃহৎ বোরো ফসিল ধানের ভান্ডার খ্যাত ফেনারবাঁক ইউনিয়নে গজারিয়া খাল পূন: খনের উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক ড.মো: ইলিয়াস মিয়া।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উদ্যোগে ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৫১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টায় গজারিয়া বাজার এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষকরা আমাদের দেশের মূল চালিকা শক্তি। হাওর এলাকার কৃষকদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক। কৃষকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। গজারিয়া খাল পুনঃখনন হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডে-১, সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, গজারিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পাকনার হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নুরুল হক আফিন্দী, ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, বাপাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওর জেলার অন্যতম বড় হাওর। বর্ষা মৌসুম শেষে এই হাওরে প্রধানত বোরো ধান চাষ হয়। বেশ কয়েক বছর ফেনারবাঁক গ্রামের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তী ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন এই কাজে অংশগ্রহণ করেন।
এক ফসলি এই হাওরের চাষযোগ্য জমিতে হাওর সংলগ্ন অন্তত ৪০টি গ্রামের কৃষক ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে হাওরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করা যেত না। চলতি বছরও জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত পাঁচ শত হেক্টর জমিতে ধান চাষ সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধানের প্রকারভেদে প্রতি হেক্টরে ৪ থেকে ৭ মেট্রিক টন উৎপাদন হলেও গড়ে ৫ মেট্রিক টন হিসেবে হিসাব করলে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন কম হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রকল্পের কাজের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও দ্রুত খনন কাজ সম্পন্ন করা গেলে চলতি মৌসুমেই বোরো ধান চাষ সম্ভব হবে। তারা কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।





