খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে বিভিন্ন মহলের শোক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তারা এসব শোকবার্তায় মরহুমার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, একতা, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার আপোষহীন অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
শাবি: শোক প্রকাশ করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাবিপ্রবি পরিবারের পক্ষে শোক প্রকাশ করেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। শোক বার্তায় বলা হয়, বেগম জিয়ার মৃত্যুতে দেশ হারাল এক দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীককে। তাঁর এই মৃত্যুতে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার কাছে মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
সিকৃবি ভিসি: শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তাঁর এক মহান অভিভাবককে হারাল। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হকৃবি: শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান বিশেষত কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্মরণীয় ও সময়োচিত। তিনি ছিলেন জাতীয় চেতনা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একজন আপসহীন ধারক। তাঁর মৃত্যু নিঃসন্দেহে জাতির জন্য এক গভীর শূণ্যতা সৃষ্টি করবে এবং ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হবে।
আরিফুল হক: শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি এক শোক বার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীন-সার্বভৌম, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। রাজনীতি, দল-মত, মতাদর্শ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ছিলেন সম্মানিত রাজনৈতিক অভিভাবক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে তিনি ছিলেন কঠিন ইস্পাতের ন্যায় মহানেত্রী। দেশের নানা সংকটে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি ছিলেন সারাদেশের মানুষের মাথার মুকুট। দেশ- মানুষের জন্য তিনি ছিলেন আদর্শবান রাজনৈতিক নেত্রী। তিনি দল-দেশ ও মাটি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
আনোয়ারুজ্জামান: বেগম জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর অবদান জাতি স্মরন রাখবে। দোয়া করি মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
মিফতাহ্ সিদ্দিকী: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম জিয়া দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবার, বিএনপির নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ইউনিভার্সিটি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে লিডিং ইউনিভার্সিটি পরিবারের পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাগীব আলী এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। এক বার্তায় তাঁরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আপোষহীনভাবে সংগ্রাম করে যাওয়া দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সিলেট প্রেসক্লাব: গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর মৃত্যু দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন কিংবদন্তী ও আপসহীন রাজনীতিককে হারাল।
প্রেসক্লাব নেতারা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এই গভীর শোকের মুহূর্তে খালেদা জিয়ার শোকাহত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং কর্মী-সমর্থকদের প্রতি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান তারা। এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা শেষে বাদ মাগরিব বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
আইনজীবী সমিতি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি শোক জানিয়েছে। একযুক্ত শোকবার্তায় সমিতির সভাপতি এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী (আবদাল) এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. জোবায়ের বখ্ত জুবের গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে শোকসন্তুপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।





