সোবহানীঘাটে বিএল ফার্মেসী থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২০:৪৭ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটস্থ দি বি.এল ফার্মেসী থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্ন মানের ঔষধ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক ও জেলা ড্রাগ সুপারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এসময় ঐ ফার্মেসী থেকে বেশ কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, গত শনিবার (১০ জানুয়ারী) সিলেটের নাছিমা বেগম তার নাতনির জন্য নগরীর সোবহানীঘাটের দি.বি.এল ফার্মেসী ওষুধ কিনতে যান। তখন ফার্মেসী কর্তৃপক্ষ ওষুধের জন্য ৪ হাজার টাকা দাবী করেন। তখন টাকা কম থাকায় তিনি বাসায় চলে যান। পরের দিন সকাল ১১ টার সময় আবার ঐ ফার্মেসীতে ওষুধ কিনতে গেলে ফার্মেসির লোক তার কাছ ঐ ওষুধ ২৫শ টাকায় বিক্রি করে। তখন তিনি মেমো চাইলে ফার্মেসীর লোক বলে এটা বিদেশী মেডিসিন তাই মেমো দেয়া যাবেনা। অনুরোধের এক পর্যায়ে তারা মেমো দেন। নাছিমা তখন ঔষধ নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বললেন ৪৭২০ টাকার মেডিসিন কিভাবে ২৫শ টাকা বিক্রি করল। নিশ্চয় সমস্যা আছে। তখন তিনি চেক করে দেখেন ঔষধের মেয়াদ নাই। পরর্বতীতে নাছিমা ঐ ফার্মেসীসহ অন্যান্য ফার্মেসীকে অবগত করলে তারা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। তখন বাধ্য হয়ে নাছিমা বেগম গত মঙ্গলবার সিলেট ভোক্তা অধিকার ও ড্রাগ সুপার অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার নগরীর সোবহানীঘাটস্হ দি বিএল ফার্মেসীতে সিলেটের ড্রাগ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এসময় বেশ কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দি বিএল ফার্মেসীতে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানকালে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়। ওষুধের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করায় শুদু ওষুধ জব্দ করা হয়েছে, জরিমানা করা হয়নি।
বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সিলেট শাখার তথ্যমতে, সিলেটের মার্কেটে প্রায় পাচশত ওষুধের দোকান রয়েছে। যারা আমাদের সমিতির নিবন্ধিত। ২ থেকে আড়াই হাজার কেমিস্ট সদস্য রয়েছেন পুরো জেলায়। যারা পুরো জেলা জুড়ে ওষুধের বাজারকে চাঙা করে রাখেন। তবে নগরীর পরিচিত ওষুধ মার্কেট বা ফার্মেসী ছাড়া বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি করা হয়।
কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সিলেট শাখার সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী বলেন, অনিবন্ধিত ফার্মেসিগুলোতে বেশির ভাগ ভেজাল ওষুধ বিক্রি হয়। এসব দোকান আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।





