বিএনপি-জামায়াতের বাকযুদ্ধ জমে উঠেছে ভোটের মাঠ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩০:৩১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার। নির্বাচনী প্রচার শুরুর মাত্র তিন দিন হলো। এই তিন দুই দিনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কথার লড়াই বেশ জমে উঠেছে। শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন। যুক্তি উপস্থাপন করছেন। সামনের দিনগুলোতে তাদের বক্তব্যে ধার আরও বাড়তে পরে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
প্রায় ১৭ বছর পর দেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ এক পরিবেশে এই ভোট যাত্রা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। কিন্তু প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মাঝে পরস্পর আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুরু করেছে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগেই আঁচ করা যাচ্ছিল যে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরবিরোধী শক্ত অবস্থানের দিকে যাবে। এখন পরিস্থিতি সেদিকেই গড়াচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে তাঁর প্রচারণা শুরু করেন। গত তিন দিনে সিলেট ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার মিলে দশটি জনসভায় বক্তৃতা করেন। আর জামায়াতের আমীর ডা: শফিকুর রহমান ঢাকার মিরপুরসহ উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরে অন্তত: ৮টি জনসভায় বক্তব্য দেন। দুই নেতার বক্তব্যগুলো তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়।
জামায়াতের দিক থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে দলটির নেতাদের অতীত দুর্নীতি, নেতা-কর্মীদের অতীত-সাম্প্রতিক দখল-চাঁদাবাজি এবং তাঁদের ‘নব্য ফ্যাসিবাদ’ হয়ে ওঠার অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে। এছাড়া বিএনপির বিরুদ্ধে দিল্লির আধিপত্যবাদ চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে জামায়াত।
বিশেষ করে খুলনায় নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো মুসলমান আরেক মুসলমানকে কাফের বলতে পারেন না-তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন। তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের।
অন্যদিকে বিএনপি বলছে, জামায়াত সৎ মানুষের শাসনের কথা বলে নিজেরাই অসৎ কাজ করছে এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে ঠকাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালট ছিনতাই এবং এনআইডি ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে ভোট চুরির ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ করছে দলটি।
গতকাল নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুটি পক্ষ থাকত-ধানের শীষ আর নৌকা। এবার নৌকা আর মাঠে নেই, রাজনৈতিক কারণে নৌকা আমাদের কাছে নেই। তার বদলে নতুন মার্কা এসেছে দাঁড়িপাল্লা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াত বাংলাদেশের পুরোনো রাজনৈতিক ধারা মেনেই নিজেদের জয় সুনিশ্চিত করতে চাইছে। এজন্য তারা চিরচেনা বাকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, দোষারোপের রাজনীতি ‘টার্মটিকেই’ রাজনৈতিক বলা হয় এবং তিনি মনে করেন, এই কথাটির কোনো গুরুত্ব গুরুত্ব নেই। কারণ রাজনীতির খেলাটাই হলো শত্রু-মিত্র খেলা। এখানে আপনি আপনার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল না করতে পারলে আপনি দুর্বল হিসেবে প্রমাণিত হবেন।
তিনি বলেন, এখন দলগুলো বিপরীত মেরুতে হাঁটলেও নির্বাচন শেষে তারা এগুলো ভুলেও যেতে পারে, এই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেও যেতে পারে। আজকে যারা পরস্পরের শত্রু, ভবিষ্যতে তারা কাছাকাছিও আসতে পারে। রাজনীতিতে শেষ কথা তো কিছু নাই!





