ছাতকে ৮ বছরের শিশুকে পাটক্ষেতে ধর্ষন করে হত্যা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১:৪৪:২১ অপরাহ্ন
স্বামী-স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছাতক প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে ৮ বছরের এক শিশুকে পাটক্ষেতে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশু ইমা (৮) ছাতক উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় ন্যাশনাল একাডেমী স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তৌফিক আহমদ বাদী হয়ে ছাতক থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা সবাই ছাতক থানার নোয়ারাই গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন-মোঃ আলমগীর হোসেন মিলনের পুত্র সৌমিক শাহরিয়ার অনিম, সৌমিক শাহরিয়ার অনিমের স্ত্রী তাহমিদ খাদিজা ছামি, মৃত শাহজাহান উরফে হরমুজ আলীর পুত্র মোঃ আলমগীর হোসেন মিলন, মোঃ লুৎফুর রহমানের পুত্র মোঃ তাওহিদুর রহমান এবং মৃত হাজী খলিলুর রহমানের পুত্র মোঃ লুৎফুর রহমান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইমা স্থানীয় ন্যাশনাল একাডেমী স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়তে যেত। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষিকার স্বামী সৌমিক শাহরিয়ার অনিম দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবার একাধিকবার আপত্তি জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গত ৫ এপ্রিল ২০২৪ ইং তারিখ সকালে শিশুটিকে ব্যতিক্রমী সময়ে প্রাইভেট পড়তে ডাকা হয়। সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে শিশুটি অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছায়। ওই সময় শিক্ষিকা তাহমিদ খাদিজা ছামি ঘরের অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সুযোগ বুঝে সৌমিক শাহরিয়ার অনিম শিশুটিকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করান। একপর্যায়ে শিশুটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সৌমিক শাহরিয়ার অনিম তাকে বাড়ির পাশের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে অনিম পালিয়ে যায়। শিশুটি তখন কথা বলার বা প্রতিরোধ করার মতো অবস্থায় ছিল না। বিকাল ৪টা পর্যন্ত শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়া যায়-নোয়ারাই গ্রামের একটি পাটক্ষেতে এক শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট পড়ার পরিবেশে কঠোর নজরদারিরও দাবি উঠেছে।





