ছাতকে গণভোট নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা নেই ভোটারের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন
ছাতক প্রতিনিধি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ একই দিনে ‘গণভোট’ বা ‘হ্যাঁ-না’ ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ সাধারণ ভোটারদের কাছে গণভোটের কোন ধারণা নেই বললেই চলে।
সরেজমিনে ঘুরে এবং সাধারণ নারী-পুরুষ ভোটারদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গণভোট কী, কেন হবে কিংবা কীভাবে ভোট দিতে হবে এ বিষয়ে তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। অনেকেই জানেন সংসদ নির্বাচন হবে, তবে একই দিনে আরেকটি ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে-এ তথ্য তাদের কাছে নতুন। ভোটারদের বড় একটি অংশের ধারণা, তারা কেবল দলীয় প্রতীকে ভোট দেবেন; এর বাইরে অতিরিক্ত ভোটের বিষয়টি তাদের জানা নেই।
উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপের মতো। আমরা অনেক বিষয় থেকেই অবহেলিত। এবারের নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব নাকি ‘না’ ভোট দেব এটাই জানি না। কেন ‘হ্যাঁ’ বা কেন ‘না’, সে বিষয়েও আমাদের কোনো ধারণা নেই। চোখে পড়ার মতো কোনো প্রচারও দেখিনি।’
স্থানীয় শিক্ষকরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উপজেলার সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের একজন প্রভাষক বলেন, গণভোট নিয়ে তেমন কোনো প্রচারণা নেই। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ বা সচেতনতা তৈরি হয়নি।’
সচেতন মহলের মতে, ভোটারদের বোঝাতে ব্যাপক ও সহজ ভাষায় প্রচার চালানো জরুরি হলেও নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও সে উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে জোর নির্বাচনী প্রচার চালালেও গণভোট নিয়ে তাদের নীরবতা লক্ষণীয়। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রতীকে ভোট চাইছেন, কিন্তু ব্যালটে থাকা ‘হ্যাঁ-না’ ভোট সম্পর্কে কোনো দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন না। এতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোটের প্রচার চালাচ্ছি। সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সভায় আমি নিজেও গণভোটের বিষয়ে কথা বলছি। নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই প্রচার অব্যাহত থাকবে।





