সিলেট-৫ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১৬:৩০ অপরাহ্ন
এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার তৎপরতা। উঠান বৈঠক, গণমিছিল, মাইকিং ও ঘরে ঘরে গণসংযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি। কোথাও উঠান বৈঠকে স্থানীয় সমস্যার কথা শুনছেন প্রার্থীরা, আবার কোথাও ছোট-বড় গণমিছিলের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরছেন। মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চা-দোকান, বাজার ও সামাজিক আড্ডায় নির্বাচন ও প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ভোটাররা এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুরুতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েন চললেও মুফতি মাওলানা আবুল হাসানের প্রার্থীতা নিশ্চিত হওয়ার পর সিলেট-৫ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। খেলাফত মজলিস মনোনীত মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসানকে জোটের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-পর্যালোচনা। জোটের সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান বাদ পড়ায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোকষ্ট দেখা দিলেও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীকে মেনে নিয়ে একযোগে মাঠে কাজ করার ঘোষণা দেন তাঁরা। হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করেছি। তবুও ঐক্যের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আল্লাহ এই জাতিকে হেফাজত করুন।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান নিজেকে মানবতার কল্যাণে কাজে লাগানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমি জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করি। জোট থেকে মনোনয়ন এসেছে, এখন জনগণের কল্যাণে নিজেকে কাজে লাগাতে চাই। তাঁর সমর্থক ও খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা জসিম উদ্দিন মনে করেন, মুফতি আবুল হাসান আলেম সমাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও আস্থার জায়গা। তাঁর ভাষায়, জোটের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার ফলে এই আসনে তাঁর বিজয় অসম্ভব নয়। ইতোমধ্যে তিনি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। জনগণ তাঁর ডাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ আমাদের মুখে হাসি ফোটবে।
অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক দীর্ঘদিনের দ্বীনি শিক্ষা ও সমাজসেবার অভিজ্ঞতাকে নির্বাচনী প্রচারের মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়, তাহলে এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবো ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামা মামুনুর রশীদ নিজেকে ‘জনতার প্রার্থী’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেন, আমি দলের বাইরে নই, দলের আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করি। জনগণের সমর্থনই আমার শক্তি। তাঁর সমর্থক এহসানুল হক বলেন, মামুনুর রশীদ মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলেন এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁকে ঘিরে আগ্রহ বেশি।
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনও তৎপর রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-৫ আসনের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর- ১১ দলীয় ঐক্যজোট কতটা ঐক্য ধরে রাখতে পারে, বিএনপি জোটের সাংগঠনিক শক্তি কীভাবে কাজে লাগে, স্বতন্ত্র প্রার্থী কতটা ভোট কাটতে সক্ষম হন এবং শেষ মুহূর্তে তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয়তা কেমন থাকে।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের মতে, বিভিন্ন সমীকরণে মুফতি মাওলানা আবুল হাসান এগিয়ে থাকলেও বাকি দু’জন প্রার্থীও শক্তিশালী। ১২ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত যাঁরা দাঁত কামড়ে মাঠে পড়ে থাকতে পারবেন, তাঁরাই শেষ হাসি হাসবেন।
সর্বোপরি বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বহুমাত্রিক ও প্রাণবন্ত নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ও প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।





