নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন শাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৬:৩০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোটের দিন কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। এ লক্ষ্যে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব) শাবিপ্রবি শাখা। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান এই কমিটির অনুমোদন দেন। তবে শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেল তালিকাটি প্রকাশ করে। তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ট্রল করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরুপ প্রতিক্রয়া দেখা গেছে।
ঘোষিত কমিটিতে ইউট্যাব শাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম ও নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবালকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইউট্যাব শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব ও ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ.ফ.ম জাকারিয়া।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অধ্যাপক ড. রেজওয়ান আহমেদ, অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রশীদ, অধ্যাপক ড. পাবেল শাহরিয়ার, সহযোগী অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান, অধ্যাপক ড. জি এম রাবিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন সিকদার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর-উল-হায়দার, অধ্যাপক মো. মোকলেছুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার সালমা আখতার ও সহযোগী অধ্যাপক সাঈফ আহমেদ।
তবে এই কমিটি গঠনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৮৭ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার করিতে পারিবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত হতে পারিবেন না। শিক্ষকদের সরাসরি দলীয় নির্বাচনী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা নীতিগতভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু বাস্তবে তারা দলীয় কমিটিতে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে নামছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের পরিপন্থী এবং শিক্ষকদের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, কমিটি গঠনের বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। বিষয়টি দেখার পর এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করব।





