শেরপুরে জামায়াতের আমীর : আমি মায়েদের কীভাবে সম্মান করি, ৯ কোটি মা তার সাক্ষী
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১০:১৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি আমার মায়েদের কীভাবে সম্মান করি, আমার মায়েরা তার সাক্ষী, বাংলাদেশের ৯ কোটি মা তার সাক্ষী। আমার টুইটার যেটাকে এখন এক্স বলা হয়, এই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ১৫ ঘণ্টা আগে মায়েদের নিয়ে অত্যন্ত বাজে, অরুচিকর, কুরুচিপূর্ণ একটা বক্তব্য দিয়ে দিছে। একটা দল দেখলাম যে হইহই রইরই করে মিছিল শুরু করে দিছে। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারা এখন মিছিল শুরু করে দিল। মানে এই কাজ কে করেছে, ঠাকুরঘরে কে, আমি কলা খাই না।
রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে শেরপুর শহরের দারোগালি মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমীর এ কথা বলেন। তিনি শেরপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, একেবারেই ইতরশ্রেণি না হলে এই কাজ কেউ করতে পারে না। আরে ভাই, আমার বক্তব্য, আমার কর্মসূচি, আমার পরিকল্পনাকে তুমি তোমার বক্তব্য, আদর্শ, কর্মসূচি, পরিকল্পনা দিয়ে মোকাবিলা করো। এই চোরাই পথে, নোংরা পথে কেন? তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, সাত ঘণ্টা পরে এখন আমার অ্যাডমিনের কন্ট্রোলে আবার এটা ফিরে এসেছে। ওই ঘটনার পর এতে সাময়িক যদি কোনো মা, ওদের অপতথ্যের কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাই।
শেরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের ডাকা সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলে এখনো কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, যারা নিজের দলেরই দুই শতাধিক মানুষকে বিদায় করেছে, তাদের কাছে মানুষের জীবন ও ইজ্জত নিয়ে খেলা করা নতুন কিছু নয়। যারা এমন কাজ করছে, তারা তাদের পাওনা সময়মতো বুঝে পাবে।
বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমীর বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তে নিষিদ্ধের পঞ্চম দিনেই সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
জনসভায় যোগদানের আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার গোপালখিলা এলাকায় নিহত রেজাউল করিমের বাড়িতে যান জামায়াতের আমীন। কবর জিয়ারতের পাশাপাশি তিনি রেজাউলের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন ডা: শফিকুর রহমান।
জামায়াতের আমীরের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছামিউল হক ফারুকী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলসহ দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে শ্রীবরদীর গোপালখিলা খেলার মাঠে অবতরণ করেন ডা: শফিকুর রহমান। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় শেরপুরে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তিনি। পরে তিনি জামালপুরে জনসভায় অংশ নেন।





