শঙ্কা ঝেড়ে ভোটযুদ্ধে সব দল, বিভিন্ন জায়গায় সমর্থকদের বাঁধা
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৯:২৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১০ দিন। সঙ্গতকারণেই নির্বাচনের দামামা বাজছে বেশ জোরেশোরে। তফসিল-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর বিএনপি-জামায়াতের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনে পাল্টা অভিযোগ, সহিংসতা, এমনকি হতাহতের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল নির্বাচনী মাঠ। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক ধরনের উদ্বেগও। তবে সেই উদ্বেগ আর শঙ্কা কাটিয়ে এখন ভোটে অংশ নেওয়া সব দলই নির্বাচনের যুদ্ধে শামিল। প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন সব দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকও।
সারাদেশের মতো সিলেটেও নির্বাচনী মাঠ সরগরম। প্রার্থীরা সরাসরি প্রতিদিন পথসভা, মিছিল, প্রচার অভিযান করছেন। এছাড়া সমর্থকরা লিফলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি ভোটার সমর্থকদের কাছেও ধর্না দিচ্ছেন।
অন্যান্য বছরের মতো এবার পোস্টার সাঁটানো নিষিদ্ধ থাকলেও বিকল্প পথে নির্বাচনী প্রচার সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন প্রার্থীরা। এই সুযোগে সিলেট নগরজুড়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ছড়াছড়ি চলছে। তবে এক্ষেত্রে জেলা রিটানিং অফিসের যথাযত তদারকির অভিযোগ করেছেন অনেকে প্রত্যক্ষদর্শী। তারা অনেকে বিশেষ একটি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে একের পর এক নির্বাচনী আচরণ লঙ্গনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রশাসন অনেকটাই দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন তারা।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করায় আওয়ামী লীগ ভোটে অংশ নিতে পারছে না। ফলে নির্বাচন বানচাল করতে দলটির পক্ষ থেকে সহিংস কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুসারে, আওয়ামী লীগ কোনো সহিংস কর্মসূচি কিংবা নির্বাচন বাতিলের কর্মসূচি দেবে না। যদিও অনলাইনে চলবে তাদের ভোট বর্জনের প্রচারণা।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার সভাপতি মুনিরা খান বলেন, এখন নির্বাচনের বাইরের চিন্তা করার সুযোগ নেই। দেশকে গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যেতে এ নির্বাচন অত্যাবশ্যক। সেটি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশকে স্থিতিশীল করতে এখন আর নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা বলা যাবে না। আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি বুঝে নির্বাচনমুখী অবস্থানে অনড় থাকবেন।
এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি নির্বাচনী জোট হয়েছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি জোট আর জামায়াত জোটের মধ্যে। জামায়াত জোটে রয়েছে তরুণদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মনোনয়ন প্রত্যাহারসহ প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। শুরুর দিকে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি পরস্পরের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ছুড়তে থাকেন। পরবর্তীকালে এ বাগযুদ্ধ ব্যক্তিগত আক্রমণেও রূপ নেয়। শুধু তাই নয়, প্রচারণা শুরুর চার দিনের মাথায় তা সহিংসতায় রূপ নেয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রার্থী-কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাল্টাপাল্টি অভিযোগও জমা হয়। এরই মধ্যে গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়। এর প্রতিবাদে সেই রাতেই ঢাকায় তাৎক্ষণিক কর্মসূচি পালন করা হয় জামায়াতের তরফে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় রাজনীতি। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনমনে ছড়াতে থাকে শঙ্কা। তবে একদিন পরই পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়ে আসে। ২৯ জানুয়ারি ঝিনাইগাতীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করে ইসি। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও সহনশীলতায় ফের গতি পায় নির্বাচনী ট্রেন। সর্বশেষ, কালো মেঘের আঁধার কেটে সব দল এখন নির্বাচনমুখী।
তবে বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার খবর প্রচার হচ্ছে। নির্বাচনের আগে স্থিতিশীল পরিবেশের জন্য যা হুমকি বলে মনে করেন সুধিমহল। এদিকে গাজীপুরে ছাত্রদলের হাতে নারী হত্যা ও বিএনপির অব্যহত নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে রোববার বাদ এশা সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্র শিবির।
এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারও। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন মনে করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে এ পর্যন্ত গৃহীত সব কার্যক্রম সঠিক পথেই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন মনে করে কোনো আশঙ্কাই টিকবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ, জাতি ও বিশ্ব দেখবে যে, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা মনে করি শতভাগ আস্থার সঙ্গে জনগণ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন; রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে এবং একটা উৎসবমুখর পরিবেশ মাঠে-ঘাটে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এগুলো তো আস্থারই বহিঃপ্রকাশ, যোগ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।





