শান্তিগঞ্জে ইউপি সদস্যসহ আহত ৩, আসামি গ্রেফতারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৪:২৩ অপরাহ্ন
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে নাহিদ নামের এক যুবকের ছুরিকাঘাতে একই গ্রামের এক ইউপি সদস্যসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আহতদের শঙ্কামুক্ত ঘোষণা করতে পারেননি চিকিৎসকরা। বর্তমানে তারা সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করা হলেও তারা এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের স্বজনরা চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও মূল অভিযুক্ত নাহিদ এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অনেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে বীরগাঁও গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বীরগাঁও নতুন বাজারে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, ঘটনার পর হামলাকারীর বাড়িতে পাল্টা হামলার ঘটনায় প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক গণমাধ্যমে ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ শিশুর নামে যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সোহেল আহমদ শিশু বলেন, তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার পর উদ্ধারকৃত একটি ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও মোবাইল কার্ড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুজেল আহমদের কাছে গচ্ছিত রয়েছে বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করে আলামত হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলি উল্লাহ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বীরগাঁওবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এমন সহিংস ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা এই উপজেলায় আরও বাড়তে পারে। এতে করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।





