সিলেট-৪ আসন : হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়নাল-আরিফ
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩১:২৯ অপরাহ্ন
* পাথর কোয়ারি খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটার টানার চেষ্টা

আব্দুল জলিল, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
বহুবছর থেকে পাথরের জনপদ হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা। এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান কর্মসংস্থানই ছিল পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসা। গত ৬ বছর থেকে স্থানীয়ভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে ধীরে ধীরে এখানে পর্যটনের বিকাশ হতে শুরু করে। আগেকার পাথরের রাজ্য এখন পর্যটনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও আলোচনার শীর্ষে চলে এসেছে পাথর কোয়ারি। এখান থেকে পাথর উত্তোলন করার সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভোট টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। কিন্তু ভোটাররা বলছেন এটা নির্বাচনী কৌশল। সরকার না চাইলে কেউ পাথর কোয়ারি খোলে দিতে পারবেন না।
কোম্পানীগঞ্জ গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর নিয়ে গঠিত ২৩২ সংসদীয় আসন সিলেট-৪। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি জোট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদ, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীক নিয়ে জহিরুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান।
এই পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের মাঝে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। ৩টি উপজেলার ২৫ ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা রয়েছেন মোট ৫০৮,১১৮ জন। এবার তরুণ ভোটারদের আগ্রহ বেশী দেখা যাচ্ছে। এই তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে মিটিং মিছিল ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করেছে। অন্যদিকে নবীন প্রবীণ মিলে ধানের শীষের প্রচারণা করেছেন। সবার প্রচারণায় ছিল পাথর কোয়ারি খোলে দেওয়ার কথা। তাছাড়া প্রত্যেক মিটিং পথসভা ও গণসংযোগে জয়নাল আবেদিন ও আরিফুল হক পাথর কোয়ারি খোলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে এই এলাকার মানুষকে বৈধভাবে পাথর উত্তোলন করার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
ভোটাররা এসব আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না। তারা বলছেন এটা নির্বাচনী আশ্বাস, অতীতে অনেকে এমন আশ্বাস দিয়েও কোন কাজ হয়নি। তারা যোগ্য প্রার্থী দেখেই ভোট দিবেন।
ভোলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভোটার ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস জানান, পাথর কোয়ারির মিথ্যা আশ্বাসে এবার আর মানুষ ভোট দিবে না। যেই এমপি হোক সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমতি ছাড়া পাথর কোয়ারি চালু করা সম্ভব নয়।
দীর্ঘ প্রায় ১ বছর থেকে ভোটের মাঠে কাজ করছেন জয়নাল আবেদিন। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের ধারেকাছে গিয়ে ভোট চেয়েছেন ও তাদের কথা শুনেছেন। অন্যদিকে বিএনপি তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করার আগে তেমন কোন প্রচারণায় ছিল না। গত বছরের নভেম্বর থেকে তারা বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা চালিয়েছেন। আরিফুল হক প্রার্থী হওয়ায় ধানের শীষের প্রচারণা অনেকটা সহজ হয়েছে। কারণ এই অঞ্চলের মানুষ আরিফুল হককে আগে থেকেই চিনে। সিলেট সিটিতে তিনি আলোচিত মেয়র হিসেবে ২ বার দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১ বছর জয়নাল আবেদিন ভোটের মাঠে কাজ করার কারণেই বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িপাল্লার সমর্থন অন্য সময় থেকে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মাঝেও উল্লেখযোগ্য সমর্থক রয়েছে দাঁড়িপাল্লার।
তিন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আরিফুল হক প্রার্থী হওয়ার আগে দাঁড়িপাল্লার সমর্থক ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় প্রতিটি এলাকায় দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ছোট-বড় সভা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকা জৈন্তাপুর উপজেলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের বাড়ি থাকায় সেখানে বাড়তি সুবিধা পাবেন তিনি। তাছাড়া এই উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানও ছিলেন জয়নাল আবেদিন। গত নভেম্বরের প্রথম দিকে আরিফুল হককে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত করা হয়। এর পর ভোটের মাঠ পরিবর্তন হতে শুরু করে। ভোটের আগমুহূর্তে প্রায় প্রতিটি এলাকায় দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর আবাস পাওয়া যাচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি লাল মিয়া জানান, ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। সব দিকে মানুষ ধানের শীষের জয়ধ্বনী করছে। তিন উপজেলার প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট ধানের শীষ পাবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ফয়জুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘ প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে মাঠে কাজ করছি, মানুষের সুখ-দুঃখ শুনেছি অনেকের অনেক সমস্যার সমাধানও করেছি। ভোটের মাঠে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ আমাদের সাদরে গ্রহণ করেছে। মানুষ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে বসে আছে। যেদিকেই যাই সেদিকেই দাঁড়িপাল্লার জয়গান শুনছি। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ ভোটাররা তাদের ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।





