সিলেট-২ আসনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী লুনার অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১১:২৬ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ভোটারদের লাঠিচার্জ ও হেনস্তা করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ১২ ফেব্রুয়ারী বেলা ৪টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলাস্থ নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে নেতা কর্মীদের নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তাছাড়া ওসমানীনগর উপজেলার একটি কেন্দ্রে জাল ভোট এবং অপর একটি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট প্রদান নিয়ে তর্কাতর্কির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বাকি ৫২টি কেন্দ্রে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, বিকাল ৪টার দিকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সিলেট-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুদা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২টার পর থেকে তার কাছে খবর আসতে থাকে বিশ্বনাথের রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (তার নিজের কেন্দ্র), আল ইমদাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনাসহ আরো বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ ভোটারদের লাঠিচার্জ, অটোরিকশা করে আসা ভোটারদের হেনস্তা ও বাধা প্রদান করে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কেন্দ্রের বাইরে সেনা সদস্যরা ভোটারদের লাঠিচার্জ করেছে। ফলাফল নিয়ে আমরা শংকিত নই। তবে কেন্দ্রের ভিতরে কি হচ্ছে আমরা জানিনা, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, এম ইলিয়াছ আলীর ছোট ছেলে লাবিব শারাহ সহ উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতা কর্মী।
এদিকে, ওসমানীনগর উপজেলার হরিনগর সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিকাল ৩টার দিকে এ কেন্দ্রের ভোটার মো. শাহীন আহমদ ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। তখন তিনি বিষয়টি ঐ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে লিখিত জানালে প্রিসাইডিং অফিসার তাকে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করে দেন।
অভিযোগকারী মো. শাহীন আহমদ বলেন, আমি বিকাল তিনটার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে দেখি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এরপর আমি লিখিত অভিযোগ করলে আমার ভোট নেওয়া হয়। হরিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আহমদ সাঈদ বলেন, একটি মিসিং হয়েছিল, ইউএনও’র সাথে কথা বলে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
অন্যদিকে সাদীপুর ইউনিয়নের শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সচেতন নাগরিক হিসেবে আবুল হাসান মাফি এর সাথে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীর হ্যাঁ ভোট নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতা কর্মীরা মাফি হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা করছেন এমন অভিযোগ এনে তাকে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাফির মোবাইল উদ্ধার করে দেন।
আবুল হাসান মাফি বলেন, আমি কোন দলের কর্মী নই। সচেতন নাগরিক হিসেবে গ্রামের অনেক মুরব্বী হ্যাঁ ভোটের বিষয় জানতে চাইলে আমি বুঝিয়ে বলি। তখন বিএনপির নেতা কর্মীরা আমাকে মেরে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর লোকজন এসে আমার মোবাইল উদ্ধার করে দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমদ আলী বলেন, বিষয়টি শুনেছি। বখতিয়ার মেম্বার ভাল বলতে পরবেন। ইউপি সদস্য বখতিয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কেন্দ্রের বাইরে একটি ছেলে ভোট চাইলে দু’গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, আমি বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছি। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা’র সরকারি মোবাইল নাম্বারে বার বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।





