বিপুল পণ্য আমদানি হলেও দাম বাড়ছে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৩:১৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : রমজানের গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্যের আমদানি আগের তুলনায় বেশি হলেও বাজারে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি চিনি, ছোলা ও ডালের দামও বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দর ধর্মঘটের কারণে সময়মতো পণ্য খালাস না হওয়া এবং নির্বাচনের ছুটিতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও চাহিদার তুলনায় পণ্যের মজুদ বেশি রয়েছে বলে জানান তারা।
রমজানের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা ও খেজুর। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু রমজান মাসে সয়াবিন তেলের চাহিদা ৩ লাখ টন। এছাড়া চিনির চাহিদা ৩ লাখ টন, পেঁয়াজ ৫ লাখ টন, ছোলা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টন এবং খেজুরের চাহিদা ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে ২ লাখ ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ, ৩ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি, ৪৭ হাজার টন খেজুর, ২ লাখ ৫ হাজার টন মসুর ডাল, প্রায় ৪ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং ১৪ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের বছরের তুলনায় এসব পণ্য এবার প্রায় দ্বিগুণ আমদানি হয়েছে। এমনকি ছোলা চাহিদার চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, চকবাজার, মৌলভীবাজার এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধরনভেদে খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হলেও দাম কমেনি, বরং বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা যেসব খেজুর বেশি কেনেন, সেগুলোর দাম বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে বস্তা খেজুর, কেজি ২২০ টাকা। জাহিদি খেজুর ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা এবং দাবাস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের পাইকারি দাম কেজিতে অন্তত ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে।
অন্যান্য খেজুরের মধ্যে বড়ই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে, সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা, চিনি ৮ থেকে ১০ টাকা, খেসারির ডাল ১০ টাকা, রসুন ২০ টাকা এবং ছোলা মানভেদে ৪ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চিনি কেজি ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা এবং ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।





