ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ , অনিশ্চতায় মধ্যপ্রাচ্য
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ মার্চ ২০২৬, ২:৫২:০০ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার আজ সপ্তম দিন। হামলার প্রথম দিন শনিবারেই নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আর ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় তেহরানের হামলা অব্যাহত থাকায় সংঘাত ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইনসহ পশ্চিম ও মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে চলা নানা জল্পনা ও গুজব নাকচ করে দিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরেহ খারাজমি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা ইতোমধ্যেই নির্বাচিত হয়ে থাকতে পারেন, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অধ্যাপক খারাজমি ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ৮ জন সদস্যের পক্ষ থেকে নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া বয়কট করার খবরটিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা এবং নিরাপত্তার খাতিরে তার নাম এখনই ঘোষণা না করা একটি অত্যন্ত যৌক্তিক নিরাপত্তা প্রোটোকল।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান বিমান যুদ্ধের উচ্চ ব্যয় মার্কিন কংগ্রেস এবং সাধারণ জনগণের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের ব্যয় আনুমানিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধের প্রথম সাত দিনেই বিপুল পরিমাণ টমাহক, থাড এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত ও নতুন অস্ত্র মজুতের জন্য পেন্টাগন ইতোমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘সাপ্লিমেন্টাল’ বাজেটের অনুরোধ জানিয়েছে।
এ অবস্থায় গতকাল ইসরায়েলের প্রধান, সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো।
এছাড়া তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে শুক্রবার সকালে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার মধ্যেই এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের আকাশে একটি এমকিউ-নাইন ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দেশটির টিভি চ্যানেল জানিয়েছে। টিভি চ্যানেলের খবরে আরও জানানো হয়, তেহরানের আশপাশে আরেকটি হারমেস ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল বলেছে, ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা ‘বড় পরিসরে’ বিমান হামলা শুরু করেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৩ হাজার ৯০টি বাড়িঘরসহ মোট ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট পির হোসেন কোলিভান্দ এ তথ্য জানিয়েছেন।
কোলিভান্দ আরও জানান, ঘরবাড়ি ছাড়াও ৫২৮টি বাণিজ্যিক ও সেবা কেন্দ্র, ১৪টি চিকিৎসা কেন্দ্র বা ওষুধ কারখানা এবং রেড ক্রিসেন্টের ৯টি স্থাপনা এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কোলিভান্দ উল্লেখ করেন, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর বেশির ভাগই ছিল ‘ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা’।
যুদ্ধের কারণে ৫২টি ফরাসি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে। ফ্রান্সের পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১২৩-এ দাঁড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে যে তাঁদের উত্তরের সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটারের (৩ দশমিক ১১ মাইল) মধ্যে থাকা শহরগুলো থেকে সরে যেতে হবে।
ৃ




