হামলা জোরালো করেছে ইরান
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ মার্চ ২০২৬, ৯:৩৪:০৭ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম ও হাইফার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
এর মাঝে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কুয়েতের আল-উদাইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটি, মোহাম্মদ আল-আহমদ নৌঘাঁটি এবং আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত একটি নৌঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর শহর হাইফার একটি নৌঘাঁটি এবং একটি রাডার সিস্টেমে হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেল’ও পৌঁছাতে দেবে না ইরান। তাদের উদ্দেশ্যে যাওয়া যেকোনো জাহাজ বা ট্যাংকার এখন থেকে ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।’
ইরানের এ মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তেল আমদানিকারকেরা প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর তেলের দাম নির্ভর করে, যা আপনারা অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।’
ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংকে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের একটি ব্যাংকে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই হুমকি দিল তেহরান।
জোলফাগারি যোগ করেন, ইরানের পারস্পরিক বা সমানুপাতিক পাল্টা আঘাতের নীতি ‘শেষ’ হয়েছে। এখন থেকে তেহরানের নীতি হবে, শক্র পক্ষের একটি আঘাতের পর পরবর্তী আঘাতের জন্য অপেক্ষা না করে ‘লাগাতার হামলা’ চালিয়ে যাওয়া।
জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মজুত তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। জার্মানির অর্থমন্ত্রী ক্যাথরিনা রাইখে এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান হামলায় ইরানজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাটির তথ্যমতে, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ হাজার ৭৩৪টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার হাসপাতাল, স্কুল এবং ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্রও রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে ৭৭টি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত ১৬টি স্থাপনাও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে।
এ অবস্থায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানায়, ‘উভয় নেতা মধ্যপ্রাচ্যের বিপজ্জনক অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরান ও আরব দেশগুলোতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।’




