সিলেটের ঈদবাজারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ মার্চ ২০২৬, ৮:০২:৪৩ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাজচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে সিলেটের ঈদ বাজারেও। যুদ্ধে অস্থিরতার কারণে প্রবাসীরা আতঙ্কের মধ্যে থাকায় দেশে থাকা স্বজনদের কাছে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না। সিলেটিদের ‘আয়ের লাইফ লাইন’ রেমিট্যান্স কম আসায় দেশে থাকা স্বজনরাও এবারের ঈদে কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট অঞ্চলের রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করা প্রবাসী সিলেটিদের কাছ থেকে। প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে বিপুল পারিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু এবার সেই রেমিট্যান্সে ভাটা পড়েছে। ফলে স্বজনরাও ঈদের কেনাকাটায় কৃচ্ছ সাধন পদ্ধতি নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটে জমে উঠেছে ঈদবাজার। ঈদ সামনে রেখে সিলেট নগরীর বিভিন্ন মাকের্ট-বিপণিবিতানে জমে উঠেছে কেনাকাটা। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। গতকাল শুক্রবার রাতে নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটের বেশিরভাগ লোকজন প্রবাসী, যাদের অনেকেই রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেননি। তাই এ বছর কেনাকাটা একটু কমেছে।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নানা রঙের আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে মার্কেট ও শপিংমল গুলো। বেশিরভাগ ক্রেতাই পরিবার নিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আগে পরিবারের ছোট সদস্যর জন্য পোশাক দেখছেন, দরদাম করছেন। কিশোর-তরুণদের কেউ দেখছেন জুতা-কেউবা আবার পছন্দের কাপড়টি ট্রায়াল দিয়ে দেখছেন, ভালো না লাগলে আবার নতুন করে খুঁজতে শুরু করছেন। এর মধ্যে শহরের জিন্দাবাজার-নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় নামিদামি ব্র্যান্ড ও আধুনিক শপিংমলগুলোতে উচ্চবিত্তের ক্রেতাদের ভিড় বেশি। আর নগরীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের বেশি ভিড় রয়েছে বন্দরবাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে। এই এলাকার হাসান মার্কেট ও হর্কাস মার্কেটে রয়েছে উপচে পড়া ভিড়। সবাই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কেনাকাটা করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের মৌসুমে পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি, নারীদের দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস, ফেব্রিক্স, গাউন ও বিভিন্ন ভাইরাল নামে আসা ড্রেস বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বছরের চেয়ে এ বছর কাপড়ের দাম একটু বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী ও জুতার দাম। গত বছরের তুলনায় জুতার দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। প্রসাধনীর দামও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে হামালার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সিলেটের ঈদবাজারে। অভিজাত শপিংমলের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেটের বেশিরভাগ লোকজন প্রবাসী। তাদের পাঠানো টাকায় দেশে থাকা পরিবার বিভিন্ন খরচ ও কেনাকাটা করেন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যেও লাখ-লাখ সিলেটি প্রবাসী রয়েছেন, বর্তমানে সেখানে যুদ্ধের কারণে প্রবাসীরা কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। অনেকে বাসা থেকে বাহিরেও বের হতে পারছেন না। এ জন্য টাকা পাঠাতে পারেননি অনেক প্রবাসী। তাই এ বছর কেনাকাটা একটু কমেছে, বলছেন ব্যবসায়ীরা।
সিটি সেন্টারের শাড়ী দোকানের কর্মচারি নাফিস ইমতিয়াজ বলেন, ঈদের বাজার করতে মার্কেটে মানুষজন আসছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর দামি পণ্য বিক্রি কিছুটা কমেছে। ক্রেতারা দরদাম করে নিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার দরদাম করে চলে যাচ্ছে। পরিচতি অনেক প্রবাসীদের পরিবার এখনও আসেনি বাজার করতে। লতিফ সেন্টারের একটি দোকানের কর্মচারী জেসি বলেন, এবার মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাকের চাহিদা বেশি। এখন ক্রেতার চাপ অনেক বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। আর আমাদের মার্কেটের আশপাশে তো সবসময়ই জ্যাম লেগেই আছে।
নয়াসড়কের ব্যবসায়ী মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাজারে কিছুটা মধ্যপ্রাচ্যের রেমিট্যান্সের প্রভাব আছে। তেব সামগ্রিকভাবে ঈদ বাজারে বেচাকেনা খারাপ নয়। নয়াসড়কে কেনাকাটা করতে আসা নাছিমা বেগম বলেন, গত বছর যে বাজেটে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করেছি, এবার সেই বাজেটে হবে না। কারণ আমার স্বামী কাতার থাকনে। সেখানে কাজ করতে পারছেন না। ঈদকে সামনে রেখে টাকাও অন্য বারের চেয়ে কম পাঠিয়েছেন। ফলে আমরা এবার কেনাকাটায় বাজেক কাটছাট করেছি।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, ঈদবাজার রাতে জমজমাট হয়, দিনের বেলা ক্রেতাদের সমাগম কম। গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য কম হচ্ছে। আর প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে, বর্তমানে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে পারছে না। যার ফলে অনেকে কেনাকাটা করতে পারছেন না।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশানর উত্তর (গণমাধ্যম) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদবাজার উপলক্ষে নিরাপত্তায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মার্কেটে পুলিশ সদস্যরা রয়েছে। নগরীতে তল্লাশিচোকি বাড়ানো হয়েছে।





