কানাইঘাটে যুবলীগ ক্যাডার জাকারিয়া গ্রেফতার
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মার্চ ২০২৬, ৯:৩৭:২৩ অপরাহ্ন

কানাইঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাটে যুবলীগ ক্যাডার জাকারিয়া আহমদ (৪০) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। ৩১ মার্চ দুপুরে উপজেলার বানীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী সড়কের কুদরতের দোকান এলাকা থেকে দেশিয় রামদাসহ তাকে গ্রেফতার করে কানাইঘাট থানা পুলিশ। সে বড়দেশ উত্তর গ্রামের মৃত শামসুল হকের পুত্র।
উল্লেখ্য, বীরদল হাওর এলাকায় একের পর এক নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল জাকারিয়া। এলাকাবাসী তার অপরাধমূলক র্কমকান্ডে অতিষ্ঠ হলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারতো না। বারবার থানা পুলিশকে গ্রেফতারের দাবী জানালেও বিগত সরকারের দলীয় প্রভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে সে তার অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যেত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ ক্যাডার জাকারিয়া সর্বশেষ তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে বড়দেশ উত্তর নয়াগ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল হাইর মালিকানাধীন এমএএইচ ফিসারিজ এন্ড এগ্রো ফার্ম থেকে গত ১৪ মার্চ সকালে জাল দিয়ে লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে নেয় এবং খামারের পাড়ে রোপণকৃত অর্ধশতাধিক বিভিন্ন জাতের ফলদ গাছ কেটে ফেলে ক্ষতি সাধন করে। মাছ লুট ও গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করতে গেলে জাকারিয়া ও তার সহযোগীরা খামারের শ্রমিকদের মারধর করে। এ ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল হাই এর পুত্র জাহিদুল হক জাকারিয়া গংদের বিরুদ্ধে গত ২১ মার্চ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর জাকারিয়া আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। ক্ষিপ্ত হয়ে সে গত ২৭ মার্চ জাহিদুল ইসলামের এমএএইচ ফিসারিজ এন্ড এগ্রো ফার্ম এর পাড়ে অবস্থিত গরুর খামার থেকে সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ৩ টি গরু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার জাহিদুল হক বাদী হয়ে জাকারিয়া আহমদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপর থেকে কানাইঘাট থানা পুলিশ জাকারিয়াকে গ্রেফতার ও নিয়ে যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার করতে অভিযানে নামে। এরই প্রেক্ষিতে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে কানাইঘাট থানার এসআই দুর্গা কুমার দেব, এএসআই রাসেল মিয়াসহ একদল পুলিশ সোর্সের সংবাদের ভিত্তিতে কৌশল অবলম্বন করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জাকারিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাকারিয়াকে পুলিশের হেফাজতে আদালতে প্রেরণ করা হবে।




