হাওরের ফসল রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের দাবিতে সিলেটে পোহাসের মানববন্ধন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন

হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে শনিবার সিলেটে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বিকাল ৪ টায় পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা (পোহাস) আয়োজিত উক্ত মানববন্ধনে সিলেটের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, কৃষক প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন পরিবেশ ও উন্নয়ন সংস্থা সভাপতি কাসমির রেজা।
পোহাসের সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা- সিলেট এর সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরী, সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, ব্লাস্ট সিলেট এর সাবেক কোঅর্ডিনেটর এডভোকেট ইরফানুজ্জামান।
লিখিত বক্তব্যে কাসমির রেজা বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সুনামগঞ্জের ১২ টি উপজেলায় অর্ধশত হাওরে অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমির কাঁচা ধান গাছে পচন ধরেছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। অন্যদিকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের অর্ধেক কাজ ও শেষ হয় নি। যা নজিরবিহীন। বাঁধের কাজে অনেক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা ৯ মার্চ তাহিরপুরে মানববন্ধন করে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলাম। এখনো শতভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম, ধর্মপাশার রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী, বাংলাদেশ দুর্নীতি প্রতিরোেধ মঞ্চ এর মহাসচিব আমিরুল ইসলাম চৌ এহিয়া, মৌলানা মোস্তাক আহমদ গোলকপুরী, বিশ্বম্ভরপুরের ফতেহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান, সমাজসেবী মোঃ দিলশাদ মিয়া , বংশীকুন্ডা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি জেনারুল ইসলাম , তাহিরপুর নাগরিক পরিষদ, সিলেট এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ রফিক উদ্দিন তালুকদার
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ ফাউন্ডেশনের সিলেট মহানগর সভাপতি দিলশাদ মিয়া, দেলোয়ার তালুকদার, কৃষক মো: গোলাম হোসেন, এপেক্সিয়ান মো: মোস্তাফিজ রহমান, সাংবাদিক ইয়াহিয়া মারুফ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি সাফকাত তাসিন, শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেট এর সহ-সভাপতি তালেব হোসেন, ইমাম হোসেন প্রমুখ।
জামিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, বন্যা হোক কিংবা জলাবদ্ধতা উভয় ক্ষেত্রেই কৃষকের ক্ষতির ধরন একই। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সোনালি ফসল। কৃষকরা ঋণ করে চাষাবাদ করেছেন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। শুধু ফসলই নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এডভোকেট এমাদুল্লাহ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে হাওর রক্ষায় তথাকথিত অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এর বাইরে কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। হাওরের বাঁধ এখন অনেক ক্ষেত্রে মরণ ফাঁদ হয়ে উঠেছে। এর বিকল্প ভেবে দেখতে হবে।
ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে হাওরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্লুইসগেট স্থাপন ও পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছেন। হাওরের কিছু অংশে স্লুইসগেট স্থাপন করা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
বক্তারা বলেন, বোরো মৌসুমে অনাহুত পানি জমতে দেয়া যাবে না এবং একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল যাতে হাওরে ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
বক্তারা স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা, কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে হাওর ব্যবস্থাপনার একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা যেসব দাবি তুলেন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, হাওরে ব্যাপক ভিত্তিতে নদী খনন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্লুইসগেট স্থাপন ও খাল পুনঃখনন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ক্ষতিপূরণ ও প্রণোদনা, হাওর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ, গবেষণা করে অস্থায়ী বাঁধের পরিবর্তে কার্যকর প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।




