ইউরোপে পোশাক রফতানিতে ভাটা
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৮:১৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য ধাক্কা লেগেছে| এই অঞ্চলের ক্রেতারা এখন অর্ডার কম দিচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ চেইন পুনর্বিন্যাস করছেন| রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ দেশভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে| অবশ্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোতে| এসব বাজারে রফতানি ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ কমেছে|
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের ˆতরি পোশাক রফতানি হয়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার| আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির তুলনায় এটি প্রায় ৭ শতাংশ কম| বাংলাদেশের মোট তৈরিপোশাক রফতানির প্রায় অর্ধেকই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে যায়| ফলে এই অঞ্চলে রফতানি কমে যাওয়াকে খাতটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা|
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং খুচরা বিক্রি ধীরগতির কারণে পোশাকের চাহিদা কমেছে| এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের মতো রফতানিনির্ভর উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর| এছাড়া অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতা বর্তমানে মজুত কমিয়ে নতুন করে ক্রয় পরিকল্পনা করছে, যার ফলে অর্ডারের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে গেছে|
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে এই ধীরগতির মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য সুযোগ রয়েছে| কারণ, ক্রেতারা এখন টেকসই উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কারখানা এবং উচ্চমূল্য সংযোজন পণ্যের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন| এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের রফতানি আবারও গতি পেতে পারে| তাদের মতে, ইউরোপীয় বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে পণ্যের ˆবচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে|
ইপিবির সর্বশেষ দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ—এই ৯ মাসে ˆতরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার| তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এতে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ হ্রাস দেখা গেছে|
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি সরাসরি কোনও বড় সংকটের ইঙ্গিত নয়, বরং বৈশ্বিক ভোক্তা আচরণ, বাজারের চাহিদা এবং ক্রেতাদের ক্রয় কৌশলে পরিবর্তনের প্রতিফলন| এই খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং সরাসরি-পরোক্ষভাবে কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত| ফলে এই পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতি বোঝা এবং সে অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|





