সড়কে বেড়েছে প্রাণহানী : মার্চে ৫৭৬ দুর্ঘটনায় ৫৩২ মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : মার্চ মাসে দেশে প্রাণহানীর সংখ্যা আরো বেড়েছে। এক মাসে মৃত্যুর হার বেড়েছে ১১ শতাংশ। এ মাসে সারাদেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। নিহতদের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ।
শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, মার্চ মাসে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া, ৭৯ জন পথচারী (১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ) এবং ৬৬ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী (১২ দশমিক ৪০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭ জন এবং আহত হয়েছেন ২২৪ জন।
যানবাহনভিত্তিক দুর্ঘটনার চিত্র :
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২০৪ জন (৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন (১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন (৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৪৫ জন (৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫ দশমিক ২৬ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (৪ দশমিক ৩২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (২ দশমিক ৪৪ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শহরের সড়কে এবং ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন :
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৬টি (২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৩১টি (৪০ দশমিক ১০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি (১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দিয়ে, ৮২টি (১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করে এবং ১১টি (১ দশমিক ৯০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা :
দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি, থ্রি-হুইলার ২০০টি, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি এবং অন্যান্য যানবাহনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ :
দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে সকালে (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) ও দুপুরে (২২ দশমিক ৯২শতাংশ)। এছাড়া রাতে ২১ শতাংশ, বিকেলে ১৭ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভোরে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র :
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার তুলনামূলক বেশি, আর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর্যালোচনা ও কারণ :
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে ১৭ দশমিক ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিকতা, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকে দায়ী করা হয়েছে।




