ইরানের ‘লাইফলাইন’ অবরোধের প্রস্তুতি : নতি স্বীকার করবেনা ইরান
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : তেল, জাহাজ কোনও কিছুই ইরান থেকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। তেহরানের ‘লাইফলাইন’ হরমুজকে অবরুদ্ধ করে ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে চাইছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সোমবার সন্ধ্যা থেকেই হুরমুজকে অবরুদ্ধ করা হবে। আর তার পর থেকে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াতে চলেছে, সে দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। অনেকেই বলছেন, হরমুজকে অবরুদ্ধ করে এবার ইরানের অর্থব্যবস্থার সরাসরি আঘাত হানার চেষ্টা করতে চলেছেন ট্রাম্প।
ওদিকে, ইরানের বন্দর অবরোধের যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। ওয়াশিংটনের এই হুমকিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে একে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে তারা।
তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দর অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পদক্ষেপে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিবিসির খবরে বলা হয়, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও সেনা ইরানি বন্দর অবরোধে ব্যবহৃত হবে না। তবে অঞ্চলটিতে যুক্তরাজ্যের মাইন অপসারণকারী ইউনিটের তৎপরতা ও ড্রোনবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শুধু ইরান নয়, আমেরিকা যদি ইরানের ‘লাইফলাইন’কেই অবরুদ্ধ করে দেয়, তা হলে বিশ্ববাজারে আবার অশোধিত তেলের দাম হুহু করে বাড়বে। কারণ, সামরিক সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখায় কয়েকশো বিদেশি জাহাজ আটকে ছিল হরমুজে। কিন্তু ইরানের তেল এবং গ্যাসবাহী জাহাজগুলির অবাধ যাতায়াত ছিল। কিন্তু এবার ইরানের ‘লাইফলাইনের’ চার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অবরুদ্ধ করে তাদের সমস্ত জাহাজও আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। সেই চারটি জায়গা হল-খার্গ দ্বীপ, জাস্ক টার্মিনাল, বন্দর আব্বাস এবং বন্দর খুমেইনি।
অথচ সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তাঁদের এই ‘লাইফলাইন’কেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিয়েছে। যা খুলে দেওয়ার জন্য বার বার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু কিছু ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র ছাড়া বাকি দেশগুলির জাহাজ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে হরমুজে। যদিও সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে বেশ কিছু জাহাজকে ছেড়ে দেয় ইরান। তবে এটাও ঘোষণা করে, হরমুজকে ব্যবহার করতে হলে প্রত্যেক জাহাজকে তাদের কর দিতে হবে। কোনও কোনও তেলবাহী জাহাজকে ২০ লক্ষ ডলার কর দিয়ে হরমুজ পার করতে হয়েছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে এটাও দাবি করা হয়েছে যে, হরমুজ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান তাদের অশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছোতে পারছে না। কিন্তু সামরিক সংঘাত চলাকালীন ইরান কিন্তু নিজেদের তেলবাহী জাহাজগুলির যাতায়াত জারি রেখেছিল। আমেরিকা এবার সেই জায়গাতেই আঘাত করে ইরানের অর্থনীতি ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে তেহরান। শত্রুপক্ষ-সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোর উদ্দেশে সতর্কবার্তায় ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, এই অঞ্চলের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা ‘সবার জন্য, নতুবা কারও জন্যই নয়’। যদি ইরানের বন্দরগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্যবস্তু করে, তাহলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
শনিবারই আমেরিকা এবং ইরানের শান্তিবৈঠক হয় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরেও কোনও সমাধানসূত্র বার হয়নি। বৈঠক ব্যর্থ হতেই ইরানের ঘাড়ে দায় ঠেলে আমেরিকা। যদিও পাল্টা ইরান দাবি করে, বিশ্বস্ততার কোনও পরিবেশ ছিল না ওই বৈঠকে। আমেরিকা শুধু অজুহাত খুঁজছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার বলেছেন, গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান একটি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গিয়েছিল।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সদিচ্ছা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল।
আব্বাস আরাগচি আরও বলেন, ইসলামাবাদে যখন দুই পক্ষ একটি চুক্তি থেকে মাত্র ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরে ছিল, তখন তেহরান অপর পক্ষের চরম অবস্থান, লক্ষ্য পরিবর্তন ও অবরোধের মুখোমুখি হয়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার ক্রমবর্ধমান আহ্বানে এবার নাম লিখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান।
অযোগ্যতার কারণে ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ব্রেনান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।





