মধ্যপ্রাচ্যে আশার আলো
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২:১৬:৪৬ অপরাহ্ন
চুক্তির কাছাকাছি আমেরিকা-ইরান
লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি
স্টাফ রিপোর্টার : লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই ঘোষণাগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায়ও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে এবং তেহরান তাদের মজুত করা পরিশোধিত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য তিনি প্রয়োজনে পাকিস্তান সফর করতে পারেন। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘সাফল্যের সঙ্গে’ এগোচ্ছে। এটি শিগগিরই শেষ হবে।
তবে মধ্যস্তাকারী পাকিস্তান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পরমাণু ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। চলমান আলোচনায় ইরানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তাহির। তিনি বলেন, আলোচনার তথ্য গোপন রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে ইসরায়েল ও লেবানন। সেই বৈঠকের আগেই দুই দেশের মধ্যে এবার ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য যে, ৩৪ বছর পর হতে চলেছে দু’দেশের ঐতিহাসিক এই বৈঠক। তাঁর আগেই এবার ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।
অন্যদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরান কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। বরং তারা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ অবসান চায়। তুরস্কে আয়োজিত ‘আন্টালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম’-এর এক পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাঈদ খতিবজাদেহ এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়ায় লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সকল সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। বিষয়টিকে ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
ইসরায়েল গঠন হওয়ার পর ১৯৪৮ সাল থেকেই লাগাতার সংঘাত চলছে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে। দুই দেশের মধ্যে কোনওরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৮৩ সালে লেবানন যুদ্ধের পরে মার্কিন মধ্যস্থতায় এই প্রথম দুই দেশের নেতারা বৈঠকে বসতে চলেছেন। যদিও এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সম্প্রতি উত্তর ইসরায়েলের ১৩টি শহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবেন’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
লেবাননের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশনে প্রচারিত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেন, মুজাহিদিনেরা ট্রিগারে আঙুল রাখবেন। তাঁরা শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
পালটা দক্ষিণ লেবাননের বিন্ট জেবেইল এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল। সূত্রের খবর, এই হামলায় একটি গোটা গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার এবং বেইরুট শহরের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটিকেও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৭। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১৭২ জন শিশু এবং ৯০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। আহতের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার।





