পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১২ কেজি সোনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৩:২৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত সোনার অলংকারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম ও রুপার অলংকার ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ।
দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর আজ সকাল ৯টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত এসব মূল্যবান সামগ্রী গণনার জন্য বের করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৯টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা খাম খুলে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ১০ জন কারিগর সোনা ও রুপার অলংকারের মান অনুযায়ী পৃথক করা এবং ওজন নির্ধারণের কাজ করেন।
গণনা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় চূড়ান্ত পরিমাণ ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ।
সোনা-রুপার ওজন পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজে স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিমাপ ও গণনা কার্যক্রমে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাগলা মসজিদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নগদ অর্থের পাশাপাশি মানত হিসেবে সোনা-রূপার অলংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। নিয়মিত বিরতিতে দানবাক্স খোলার পর নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া হলেও অলংকার ও বিদেশি মুদ্রা সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হতো।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে গণনা ও ওজন নির্ধারণের কাজ করা হয়। এ কাজে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করেন। অলংকারগুলোর সঠিক ওজন ও মান নির্ধারণের পর বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রাগুলো দেশ অনুযায়ী আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুসারে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হবে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ মার্চ সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় তিন বছর ধরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রুপার অলংকার নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা পাওয়া যায়। অলংকারগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে বিক্রি করা হয়েছিল। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ টাকা।
জেলা প্রশাসক জানান, ২০২০ সালের মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হলেও সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার গণনা করা হয়নি। সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খুলে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যায়।
বর্তমানে রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
মসজিদের অনুদানের অর্থ দিয়ে মুসল্লিদের সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনটি নতুন নামাজের শেড, বড় পরিসরের অজুখানা ও নারীদের জন্য পৃথক ওয়াশব্লক নির্মাণে ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকার কাজ চলমান। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বহিরাগত মুসল্লিদের জন্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বমানের বহুতল ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।





