জালালাবাদ ই-পেপার
সিলেট, মঙ্গলবার | ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

ফের ভারী বৃষ্টির আভাস, বাড়ছে শঙ্কা!


আপডেট: ১০:০৬:৩৩, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
ফের ভারী বৃষ্টির আভাস, বাড়ছে শঙ্কা!


স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। তবে সোমবার সকালে সিলেটে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় আবার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ার নদীর পানি সোমবারও ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে বন্যা পরিস্তিতির উন্নতি অব্যাহত থাকায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছে মানুষ। পানি কমার সাথে সাথে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষত। সিলেট নগরীসহ অনেক জায়গায় পানি কমে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একই সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে প্লাবিত এলাকায়।

জানা গেছে, গত দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় সিলেটের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছিল। তবে সেটি অনেকটা ধীরগতিতে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পানি ধীরগতিতে নামায় জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি চারটি পয়েন্টে সোমবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছিল।

সিলেট পাউবো বলছে, সোমবার সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছিল। নদীর ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। আবার কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছে। অমলশিদ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকার পানি বেড়েছে। তবে সুরমা নদীর অববাহিকায় পানি কমেছে। যদিও পানি কমার গতি খুবই শ্লথ।পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, হাওরসহ সিলেটের নিচু এলাকা এখনো পানিতে পরিপূর্ণ। অন্যদিকে মৌলভীবাজারের জুড়ী ও মনু নদের পানি সিলেটের কুশিয়ারা নদীতে যুক্ত হচ্ছে। তাই নদীর পানি নামছে ধীরগতিতে। সোমবার বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় পানি বেড়েছেও। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানা জানা যায়, ২৮ জুন থেকে সিলেটে অতিভারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হতে পারে। এজন্য আগাম সতর্ক থাকতে বলেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানিয়েছেন, এখনো জেলায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ লোক পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। এরমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ১৩ হাজার ১৫৪ জন।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, সিলেটে গত দুই দিন বৃষ্টি না হলেও সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গল ও বুধবার স্বাভাবিক বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে আর বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

এদিকে সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লার জলাবদ্ধ অবস্থার উন্নতি হলেও সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আবার জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নগরের শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত মিয়া বলেন, ঈদের পরদিন থেকে তাঁদের ঘরে প্রায় হাঁটুপানি ছিল। এক স্বজনের বাড়িতে তিন দিন অবস্থান করে ঘরে ফিরেছেন। এখন আবার জলাবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হলে পরিবার নিয়ে আবার ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

পানি কমলেও শেষ হচ্ছেনা দুর্ভোগ :
সিলেটে বৃষ্টিপাত কমেছে, আকাশও রৌদ্রজ্জল। ফলে সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অল্প উন্নতি হয়েছে। ধীরগতিতে হলেও নগরের প্লাবিত বেশিরভাগ এলাকার পানিও নেমেছে। কিন্তু ভয় কাটছেনা। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিলেটে ফের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ওদিকে, পানি কমার সাথে সাথে বেরিয়ে আসছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। এতে পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে, ভোগান্তি ততই বাড়ছে।

সিলেট শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে জাঙ্গাইল গ্রাম। প্রায় তিনশ’ পরিবারের বাস এ গ্রামে। গ্রামটির দেড়শ’ বাড়িই প্লাবিত হয়েছে। হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি ছিল। গতকাল অনেক জায়গা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় বন্যার ক্ষত দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। শুধু এই গ্রামই নয়, বন্যাকবলিত প্রায় সব এলাকার চিত্র এটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে ১০ থেকে ১২টি এলাকায় এখনো পানি জমে আছে। নগরের টুকেরবাজার এলাকার সবজির বাজার এখনো পানিতে তলিয়ে আছে।উপশহর ও সোবহানীঘাট এলাকার অনেক রাস্তা ও বাসাবাড়ি এখনো পানির নিচে। বিভিন্ন এলাকার পানি নেমে যাওয়ায় মানুষজন বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

নগরের একাধিক বাসিন্দা বলেন, পানি কমতে শুরু করলেও এখনো অনেক বাড়িঘরে পানি আছে। মূল সড়ক থেকে পানি নামলেও পাড়া-মহল্লার গলিতে পানি রয়ে গেছে। এছাড়া টানা কয়েক দিন পানিবন্দী থাকায় ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় কাদা-ময়লা জমেছে।

নগরের মণিপুরি রাজবাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, পানি বেড়ে যাওয়ায় ঈদের দিন নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে এক স্বজনের বাড়িতে উঠেছিলেন তারা। ঘর থেকে পানি নামলেও পরিবারের সদস্যরা ঘরে ফেরেননি। ঘরে পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি মাটিও জমেছিল, সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।

বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সঙ্কট :
সিলেটে নামছে বন্যার পানি। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরছে অনেকে। কেউ আবার আছে ফেরার অপেক্ষায়। তবে বন্যাকবলিত ওই সব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। তবে বানভাসিদের দাবি, তারা যা পাচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট।

দেশজুড়ে রাসেলস ভাইপার শংকা


আপডেট: ৯:২৯:৫৩, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
দেশজুড়ে রাসেলস ভাইপার শংকা

গতকাল জাতীয় মিডিয়ায় ‘২৮ জেলায় ছড়িয়েছে রাসেলস ভাইপার’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ২৮ টি জেলায় বিষধর রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু জাতীয় মিডিয়ায় নয়, এ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাপের কামড়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার খবরের পর দেশটির সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালকে অ্যান্টিভেনম মজুত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাপের কামড়ের শিকার ব্যক্তিদের যতো দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বিবিসি বলেছে, বাংলাদেশের গ্রামীণ হাসপাতালগুলো থেকে সাপের কামড়ের শিকার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য জানানো হচ্ছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগই দক্ষিণ এশিয়ায় পাওয়া রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ের শিকার।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রাসেলস ভাইপার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও হৈ চৈ হচ্ছে। এ নিয়ে মানুষের মাঝে শংকা সৃষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। আর এ ধরনের শংকা ও উদ্বেগের বিষয়টি অযৌক্তিক বলা যাবে না। কারণ ইতোমধ্যে এই বিষধর সাপের কামড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু লোকের মৃত্যু ঘটেছে। গত ১১ জুলাই ফরিদপুরে জনৈক সাপুড়ে নজরুল রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মারা যান। তিনি সাপটিকে অজগরের বাচ্চা ভেবেছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল একই জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায় রাসেলস ভাইপারের কামড়ে জনৈক কৃষকের মৃত্যু হয়। উভয়ক্ষেত্রেই বেশ ব্যয়বহুল চিকিৎসা সত্বেও আক্রান্তরা মারা যান। ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড ¯েœক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া অর্থাৎ রাসেলস ভাইপার, রাজ গোখরা, পদ্ম গোখরা, কাল কেউটে, দাঁড়াশ, অজগর, ঢোড়া, শঙ্খিনি ইত্যাদি সহ প্রায় ৯০ প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে ২৬ প্রজাতির সাপ বিষধর।

বছর তিনেক আগে বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকায় ‘নড়িয়ার ড্রেজারে রাসেলস ভাইপার এলো কী করে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাসেলস ভাইপার শ্রীলংকার কিছু অঞ্চল, ভারতের কিছু অংশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপার গঙ্গা-পদ্মা নদীকে আশ্রয় করে বেঁচে আছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন করে এ সাপটি বাংলাদেশে ঢুকছে। রাসেলস ভাইপার কোন মানুষকে কামড়ালে তার দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। কিডনী বিকল হয়ে পড়ে। রক্তচাপ কমে যায়। এই সাপের কামড়ে মৃত্যুহার অনেক বেশী। নতুন আবির্ভুত এই বিষধর সাপ নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে রাসেলস ভাইপার। বাংলাদেশ টক্সিকোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এম এ ফয়েজ বলেন, সর্প দংশনের সমস্যাকে ‘জনস্বাস্থ্য সমস্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। দেশে যে অ্যান্টিভেনস রোগীদের দেয়া হচ্ছে তা রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে কতোটুকু কার্যকর তা খতিয়ে দেখতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিশ্বে বিষধর সাপের কামড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আর সাপের কামড় সত্বেও বেঁচে গেলেও বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন অনেক সাপে কাটা রোগী। সাড়ে কামড়ালেও তার জন্য সঠিক অ্যান্টিভেনম না পাওয়া এতো মৃত্যু হারের কারণ। প্রজাতিভেদে অ্যান্টিভেনম আলাদা হওয়ার ফলে অনেকক্ষেত্রে দংশনকারী সাপ চিহ্নিত করা যায় না। ফলে সঠিক অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা যায় না। আবার কিছু প্রজাতির সাপের অ্যান্টিভেনমও খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪ লক্ষাধিক মানুষকে সাপে কামড় দেয়। তাদের মধ্যে মারা যায় ৭ হাজার জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাপের কামড়ের সব ঘটনার মধ্যে এক চতুর্থাংশ বিষাক্ত, যাদের ১০ দশমিক ৬ শতাংশ শারীরিক ও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কামড়ের শিকার রোগী মানসিক অক্ষমতায় আক্রান্ত হয়। সাপের কামড়ের মধ্যে ৯৫ শতাংশ ভুক্তভোগী গ্রামীণ অঞ্চলের এবং নারীদের তুলনায় পুরুষের সাপের কামড়ের ঝুঁকি বেশি। গত বছর তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যাটি অনেক বড়। দেশে একটি ভেনম সংগ্রহ কেন্দ্র আছে। আমাদের অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, রাসেলস ভাইপার সাপের নামটির সাথে জড়িয়ে আছে আঠারো শতকের ব্রিটিশ সর্পবিদ বা সর্প গবেষক প্যাট্রিক রাসেলের নাম। স্কটিশ সার্জন ও প্রকৃতিবিদ প্যাট্রিক রাসেল ভারতে কর্মরত ছিলেন। তাকে ‘সর্পবিদ্যার জনক’ও বলা হয়। তিনি সাপ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন। তার নামেই রাসেলস ভাইপার সাপের নামকরণ করা হয়েছে।

সিলেটে পূর্বঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা


আপডেট: ১০:১১:০৬, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
সিলেটে পূর্বঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা


পুলিশ কর্তৃক চালক হয়রানী বন্ধ, ভারতীয় চিনি চোরা কারবারিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার, বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুতে অযৌক্তিক টোল আদায় বন্ধ, দেড় বছর যাবৎ নবায়নের জন্য জমাকৃত লাইসেন্স দ্রুত ডেলিভারী, রেকারের নামে পুলিশের চাদাবাজী বন্ধ ও সিলেট বিভাগে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ সহ ১৩ দফা দাবীতে সিলেটে পূর্বঘোষিত ২৫ জুন মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকীর সাথে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৫ জুন থেকে পূর্বঘোষিত পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

উক্ত আশ^াসের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মইনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সজিব আলী পূর্বঘোষিত পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন।

এব্যাপারে ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৩ দফা দাবী জানিয়ে গত ১৩ জুন বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছি। উক্ত স্মারকলিপিতে আমাদের দাবী মেনে নেয়া না হলে ২৫ জুন থেকে সিলেটে পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে সোমবার (২৪ জুন) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় আমাদেরকে ডাকেন। আমরা মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে আমাদের দাবী উত্থাপন করি। তিনি আমাদের দাবী শুনেন এবং পরবর্তীতে দাবী বাস্তবায়নের আশ^াস দেন। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। এর প্রেক্ষিতে আমরা পূর্বঘোষিত শ্রমিক কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেছি। পরবর্তীতে আমাদের দাবী মানা না হলে আমার আবারো কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবো।

আমাদের ১৩ দফা দাবী হচ্ছে- পুলিশ কর্তৃক পরিবহন শ্রমিকদের হয়রানী নিত্যনৈমত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় চিনি চোরা কারবারিরা পুলিশের যোগসাজশে চিনি পাচার করলেও নিরীহ চালককে গ্রেফতার ও আসামী করে মামলা করা হচ্ছে। অথচ চোরা কারবারিরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট ও হাসপাতালে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। রোগী ও যাত্রীদের সেবা করতে গিয়ে নিরীহ চালকদেরকে পার্কিং মামলা দেয়া হচ্ছে। ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় চালকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন সেতুতে অযৌক্তিকভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া টোল আদায়ের নামে বিভিন্ন পৌরসভায় চাদাবাজী চলছে। দেড় বছরের বেশী সময় ধরে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করলেও আজ অবধি লাইসেন্স দেয়া হচ্ছেনা। বিআরটিএ অফিসকে দালালমুক্ত করতে হবে। উপজেলা ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করতে হবে। সিলেট বিভাগের সকল জেলায় ২৪ ঘন্টা গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়ক ও জনপথের অব্যবহৃত খালি জায়গায় অস্থায়ীভাবে পার্কিং স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি প্রদানসহ অবৈদ দখলদার মুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দাবী যৌক্তিক। আমরা বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের আশ^াসে বন্যার কারণে মানবিক বিবেচনায় পূর্বঘোষিত পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের দাবী মানা না হলে আবারো কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবো। বিজ্ঞপ্তি

যুক্তরাজ্যে জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ৩১ প্রার্থী


আপডেট: ১০:০০:০৩, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
যুক্তরাজ্যে জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ৩১ প্রার্থী


জালালাবাদ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুলাই। আসন্ন নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যাক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি, লেবার পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি, গ্রিন পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে ও স্বতন্ত্র হিসেবে এসব প্রার্থি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র ব্যানারে নির্বাচন করলেও প্রার্থিদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ভোটারদের ওপর ভরসা ও ফিলিস্তিনি ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন।
এবারের নির্বাচনে নারীসহ ৩১জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে লেবার পার্টি থেকে ৮জন, কনজারভোটিভ পার্টি থেকে ২জন, ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে ৫জন, লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি (লিবডেম) থেকে ১জন, রিফর্ম পার্টি থেকে ১জন, গ্রিন পার্টি থেকে ২জন, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) থেকে ১জন অংশ নিচ্ছেন নির্বাটনে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১জন।

চারটি আসনে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদেরই লড়তে হচ্ছে। লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন ও স্টেপেনি আসনে ৫জন, ইলফোর্ড সাউথ আসনে ৫জন, স্টার্টফোর্ড অ্যান্ড বো আসনে ৩ জন এবং পপলার এন্ড লাইম হাউস আসনে ২জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

লেবার পার্টির মনোনয়নে বেথনাল গ্রিন এন্ড স্টেপেনি আসনে রোশনারা আলী, হ্যাম্পস্টেট অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে বঙ্গবন্ধু নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, পপলার এন্ড লাইম হাউজ আসনে আফসানা বেগম, ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড একটন আসনে রূপা হক, গর্ডন অ্যান্ড বুচান আসনে নুরুল হক আলী, উইথাম আসনে রুমি চৌধুরী, সাউথ নর্থাম্পটন আসনে রুফিয়া আশরাফ, ব্রিগ ইম্মিংহাম আসনে নাজমুল হোসেন নির্বাচন করছেন।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ২জন মনোনয়ন পেয়েছেন। আতিক রহমান টটেনহাম আসনে ও সৈয়দ শামীম আহসান ইলফোর্ড সাউথ থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনয়নে ইলফোর্ড সাউথ আসনে গোলাম টিপু, বেডফোর্ড আসনে প্রিন্স ছাদিক চৌধুরী ও হকনি সাউথ সরডিচ আসনে মোহাম্মদ সাহেদ হোসাইন, সেল ওয়েস্ট আসনে ফয়সল কবির, ম্যানচেস্টার রুসলম আসনে মোহাম্মদ বিলাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গ্রিন পার্টির মনোনয়ন পেয়ে ইলফোর্ড সাউথ আসনে সৈয়দ সিদ্দিকী ও ওল্ডহাম ওয়েস্ট রস্টন আসনে সৈয়দ সামসুজ্জামান শামস লড়ছেন। ইলফোর্ড সাউথ আসনে আসনে রিফর্ম পার্টির মনোনয়নে নির্বাচন করছেন রাজ ফরহাদ।লিবারেল ডেমোক্রেট পাটির্র (লিবডেম) মনোনয়নে বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড স্টেপেনি আসনে রাবিনা খান নির্বাচন করছেন। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মনোনয়নে ডানফার্মলাইন আসনে নির্বাচন করছেন নাজ আনিস মিয়া।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড স্টেপেনি আসনে আজমল মাসরুর, সাম উদ্দিন, সুমন আহমদ, পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনে এহতেশাম হক, স্টার্টফোর্ড অ্যান্ড বো আসনে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নিজাম আলী ও হালিমা খাতুন, ইলফোর্ড সাউথে নূর জাহান বেগম, হেলবন অ্যান্ড পেনক্রাস আসনে ওয়াইস ইসলাম, ব্যাক্সহিল অ্যান্ড বেটল আসনে আবুল কালাম আজাদ, ওল্ডহাম ওয়েস্টে রাজা মিয়া নির্বাচন করছেন।

বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড স্টেপেনি আসনের বর্তমান এমপি রোশনারা আলীসহ ১১জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রোশানারা আলীকে আরও ৪ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে ২০১০ সালে রোশানারা আলী লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে নির্বাচিত হন। বর্তমানে টানা চার বারের এমপি তিনি।পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনে বর্তমান এমপি আফসানা বেগম তাঁর সাবেক স্বামী স্বতন্ত্র প্রার্থী এহতেশাম হকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন। আপসানা বেগম সর্বশেষ নির্বাচনে লেবার পার্টির মনোনয়ন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বর্তমানে চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা হলেন, রোশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রূপা হক ও আফসানা বেগম। এর মধ্যে রোশনারা আলী টানা চার বার, টিউলিপ ও রূপা হক তিনবার ও আফসানা বেগম একবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়লাভ করলে রোশানারা অথবা টিউলিপ যে কোন একজন মন্ত্রী সভায় স্থান পেতে পারেন।
নির্বাচন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহের শেষ নেই। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন প্রবাসীরা।

লুটন যুক্তরাজ্যের অন্যতম বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহর। সেখানে বসবাস করা মেহেদি হাসান খান বলেন, ‘আমি আগে স্থানীয় ইলেকশনে ভোট দিয়েছি, এবারই প্রথম জাতীয় ইলেকশনে ভোট দেব। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক মন্দা, ফিলিস্তিনি ইস্যু, ইমিগ্রেশনের নানা পরিবর্তন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণসহ নানা কারণে প্রবাসীদের কাছে আগ্রহ তৈরি করেছে আসন্ন নির্বাচন।’

লন্ডনের বাসিন্দা সরফ রাজ জুবের বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মতবিরোধের কারণে বেশ কয়েকটি আসনে একাধিক বাংলাদেশি প্রার্থী। কমিউনিটির লোকজন বিভক্ত হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এতে আমাদের ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে। প্রার্থীদের মধ্যে ছাড় দেয়ার মনোভাব থাকলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপির সংখ্যা আরো বাড়তে পারত।’

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী বলেন, ‘আমি রোশনারা আলীর পক্ষে ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছি, কারণ তিনি প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম বাংলাদেশি মহিলা যে এখানে টানা চার বার এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। অন্যদের চেয়ে তিনি যোগ্য, তাঁর পাশে দাড়াতে হবে। আমাদের কমিউনিটির জন্যই তাকে বিজয়ী করতে হবে।

শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে গাড়ী চালকের মৃত্যু


আপডেট: ৯:৫৬:২৮, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে গাড়ী চালকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে রাসেল আহমদ (২৫) নামে এক পরিবহন শ্রমিক নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত রাসলে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া গ্রামের কবির আহমদের ছেলে। তিনি জকিগঞ্জ মাইক্রোবাস পরিবহন শাখার সাবেক সহ সভাপতি ছিলেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার শ্রীমঙ্গল- হবিগঞ্জ সড়কের শাহাজীবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, জকিগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মস্তাক আহমদ ও তার পরিবার নিয়ে ঈদের দাওয়াতে শ্রীমঙ্গলে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে শ্রীমঙ্গল- হবিগঞ্জ সড়কের শাহাজীবাজার এলাকায় গাড়ি পাকিং করে অবস্থান করছিলেন তারা। এসময় বজ্রপাত চালক রাসেলের উপর পড়লে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় অন্য যাত্রী কাউন্সিলর মস্তাকসহ তার পরিবারের তিনজন আহত হন। আহতরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি বিনয় ভূষন রায়।

আম্বরখানায় অপহরণ করে যুবক হত্যার রহস্য উদঘাটন


আপডেট: ৯:৫৫:২১, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
আম্বরখানায় অপহরণ করে যুবক হত্যার রহস্য উদঘাটন


স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর আম্বরখানা এলাকায় গোলাপগঞ্জের যুবক আবুল হাসান (২৮) কে অপহরণ ও পরে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যার সাথে জড়িত রায়হান আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাজীটুলা মক্তবগলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঐ আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রায়হান নগরীর কাজীটুলা মক্তবগলির উবায়দুল হকের পুত্র।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৮জুন) রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের কলাশহর পূর্ববাগ গ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে আবুল হাসান ও তার চাচাতো ভাই মিনহাজ আহমদ একটি হাসপাতালে তার অসুস্থ বোনকে দেখতে সিলেট শহরে আসেন। এরপর তারা ওভারব্রিজ থেকে একটি সিএনজিতে উঠেন। এসময় সিএনজি চালক ও সিএনজিচালিত গাড়িতে থাকা অপর যাত্রী আবুল হাসান ও চাচাতো ভাই মিনহাজ আহমদকে চৌহাট্টাস্থ মাতৃমঙ্গল হাসপাতালে না নিয়ে আম্বরখানাস্থ হোটেল হিমেলের গলি দিয়ে আলহাজ শেখ সামসুল আলমের বাসার (বাসা নং-ওয়েভস্ বি-৯৭/১) ৫ম তলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভবনের ছাদে থাকা অপর আসামীরা আবুল হাসান ও মিনহাজ আহমদকে কিল ঘুষি মেরে তাদের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা ও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় তারা এলোপাথাড়ি মারধর করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এসময় তাদেরকে চাঁদা না দিলে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার হুমকী দিয়ে চাকু ধরে ভয় দেখিয়ে ছাদের এক কোনায় নিয়ে যায়। সেখানে আবুল হাসানের সাথে আসামীদের ধস্তাধস্তির এক পর্যায় আসামিরা আবুল হাসানকে ছাদ থেকে ধাক্কা মারলে আবুল হাসান নিচের একটি টিনশেড বাসার উপর পড়ে সেখান থেকে মাটিতে পড়ে যান।

তখন আসামিরা বিল্ডিংয়ের ছাদ হতে নেমে যে যার মতো করে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। আবুল হাসান এর চাচাতো ভাই মিনহাজ সাথে সাথে বিল্ডিংয়ের ছাদ হতে নিচে নেমে আশপাশের উপস্থিত লোকজনদের সহায়তায় আবুল হাসানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দরগা গেইটস্থ নুরজাহান হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসানের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। ওসমানী হাসপাতালে আইসিউতে সিট না থাকায় তাকে দ্রুত সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উইমেন্স হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল হাসান ঐদিন রাত ২টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই খালেদ আহমদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-২৬, তাং-২১/০৬/২০২৪ইং) দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বিষয়টির তদন্তে নামে। এক পর্যায়ে পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত রায়হান আহমদকে গ্রেপ্তার করে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মঈন উদ্দিন সিপন জানান, গ্রেপ্তারকৃত রায়হান আহমদ আদালতে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামীদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করেছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামীদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

রাশিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ পুলিশসহ নিহত ১৭


আপডেট: ৯:৪৬:১১, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
রাশিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ পুলিশসহ নিহত ১৭


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার দাগেস্তানে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্য। এছাড়া আরো কয়েকজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস। রোববার এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলায় ১৫ জন পুলিশ অফিসার, একজন যাজক এবং একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৬ জন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। অন্য হামলাকারীদের খুঁজতে এখনো অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মূলত দারবেন্ট এবং মাখাচাকালা শহরের অর্থোডক্স উৎসবকে টার্গেট করেছিলো এই হামলাকারীরা। ওই হামলাকারীদের পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে এর আগে ওই এলাকায় কট্টর ইসলামপন্থি জঙ্গি সংগঠনগুলো হামলা চালিয়েছিলো। এই হামলায় দুটি চার্চ ও দুটি সিনাগগকে টার্গেট করেছিলো হামলাকারীরা। দাগেস্তান রিপাবলিকের নেতা সার্গেই মেলিকভ ১৫ জন পুলিশ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো। এই ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে দেখা যায়, কালো কাপড় পরে হামলাকারীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছেন। দারবেন্ট এলাকায় মূলত ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করে থাকেন। হামলার পর চার্চ ও সিনাগগে আগুন লাগিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এর আগে গত মার্চে মস্কোর ক্রোকাস হলে হামলা চালিয়েছিলো সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় ১৪৩ জনের মৃত্যু ঘটেছিল।

গাজায় ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ


আপডেট: ৯:৪৫:০৯, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
গাজায় ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি বোমা হামলায় খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ২১ হাজার শিশুর। শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে এই শিশুরা হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি-ঘরের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

গত বছরের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল অভিমুখে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এতে ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন এক হাজার ৪০০ জন। এরপর বছরের পর বছর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চালানো নিপীড়ন আরও জোরালো করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেদিনের পর থেকে চালানো সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে ৩৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত ৮৫ হাজারেরও বেশি। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, গাজায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহ করা অসম্ভব। তবে অন্তত ১৭ হাজার শিশু এখন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে ধারণা আমাদের। আর প্রায় ৪ হাজার শিশু ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, অনেক শিশুকে গুম করা হয়েছে। অজানাসংখ্যক শিশুকে আটক করা হয়েছে এবং গাজা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

ডিমের দামে রেকর্ড


আপডেট: ৯:৪৪:৫৪, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
ডিমের দামে রেকর্ড

জালালাবাদ রিপোর্ট: ডিমের বাজারে গত কয়েক দিন ধরে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। আর পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৫০ টাকা। এছাড়া প্রতি পিস ডিমের দাম ১২ টাকা বেড়ে এখন ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে হুট করে বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে নি¤œ আয়ের মানুষ।

সোমবার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি হালি ডিমর ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড়বাজার থেকে কিনলে ডিমের ডজন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, আর খুচরা দোকানে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

লালবাজারের একজন ডিম বিক্রেতা বলেন, প্রায় একমাস ধরে ডিমের বাজার অস্থির হয়ে রয়েছে। ফার্মের মুরগির একটি ডিম পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকারও বেশি দামে। সামান্য লাভে বিক্রি করলেও প্রতি ডজনের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এরমধ্যে অনেক ডিম ভেঙে যায়। ফলে খুচরায় প্রতি ডজন ১৬৫ টাকার কমে বিক্রি করলে লোকসান হয়।

পাইকারি ডিম বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া এপ্রিল-মে মাসে প্রচ- তাপপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। অতি গরমে অনেকের খামারে মুরগি মারাও গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ডিমের বাজারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে গত ১০ অর্থবছরে ডিম ও দুধ উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এ সময়ে মাংস উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৭ কোটি, যা এখন বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৩৮ কোটি। তবে বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে উৎপাদন বাড়ার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা।

৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ায় জড়িত : পলক


আপডেট: ৯:৪২:০৮, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ায় জড়িত : পলক


জালালাবাদ ডেস্ক: অনলাইন জুয়ার সঙ্গে দেশের ৫০ লাখ মানুষ জড়িত বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপুইয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া নিয়ে আমরা মতবিনিময় করেছি। এটাতে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আমাদের বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা। এমনকি অনেক বয়স্ক রিটায়ার্ড ব্যক্তিরাও এর মধ্যে আসছেন। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি ৫০ লাখ মানুষ কীভাবে যেন এই অবৈধ জুয়ার সাইটগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা জুয়ার সাইটগুলোকে ব্লক করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি একটা সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা করছি। যেন সাধারণ মানুষ এ ধরনের কোনো প্রলোভনে পড়ে প্রতারিত না হন। আমাদের দেশের মুদ্রা যেন বিদেশে পাচার না হয়। একটা সচেতনতা আর একটা প্রযুক্তিগত প্রয়োগ, পাশাপাশি কঠোর আইনের প্রয়োগ। আমরা মোট ২ হাজার ৬০০টি জুয়ার সাইট ব্লক করেছি। এখন আমরা মোবাইল অ্যাপগুলো প্রতিনিয়ত ব্লক করছি। এটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস, চলতে থাকবে।

আপনারা সাইট ব্লক করছেন, ওরা আবার অন্য দিক দিয়ে খুলছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পলক বলেন, সেটা নিয়ে আমরা যৌথভাবে বসেছিলাম ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম, ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার, কম্পিউটার কাউন্সিল, বিটিআরসি এবং সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি- সবাইকে নিয়ে আমরা বসেছিলাম। যার যতটুকু সক্ষমতা আছে পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স, সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে একটা ড্রাইভ দিচ্ছি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আরও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রযুক্তি প্রয়োগ করে আমরা নিয়মিত এটা আমরা ব্লক করতে থাকবো। মিডিয়াসহ বিভিন্ন সোর্সে যেটা পাচ্ছি, সেটা ব্লক করার চেষ্টা করছি।

শান্তিগঞ্জে ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যু


আপডেট: ৯:৪১:১০, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
শান্তিগঞ্জে ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যু

সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বেপরোয়া গতির মালবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ কলেজের পার্শ্বে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম মরিয়ম বেগম (০৭)। সে আস্তমা গ্রামের এমদাদুল হকের মেয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পার্শ্ব দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক শিশু মরিয়মকে চাপা দেয়। এতে তার দেহ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি খাদে পড়ে যায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। শিশু মরিয়মের পরিবার আব্দুল মজিদ কলেজের পার্শ্বেই বসবাস করে। এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, শিশুকে চাপা দেওয়া ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

১৩ দিনে সড়কে ২৬২ মৃত্যু


আপডেট: ৯:৪০:২৯, ২৪ জুন ২০২৪, সোম বার
১৩ দিনে সড়কে ২৬২ মৃত্যু

জালালাবাদ ডেস্ক: ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনে (১১-২৩ জুন) সারাদেশে ২৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬২ জন নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫৪৩ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৩২ ও শিশু ৪৪ রয়েছেন। এই সময়ে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছে। ১৬টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে ১২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০৪ জন, যা মোট নিহতের ৩৯.৬৯ শতাংশ।

সোমবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ‘ঈদুল আজহা উদযাপনকালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে’ এসব তথ্য পাওয়া যায়। সংগঠনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। ১৩ দিনের দুর্ঘটনায় ৯৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার মানব সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫৩৩টি। এরমধ্যে বাস ৭১টি, ট্রাক ৫২টি, কাভার্ডভ্যান ১০টি, পিকআপ ১৩টি, ট্রাক্টর ৮টি, ড্রামট্রাক ৯টি, ট্রলি ৩টি, কার্গো ট্রাক ২টি, ট্যাংক লরি ২টি, মাইক্রোবাস ১৬টি, প্রাইভেটকার ১৮টি, অ্যাম্বুলেন্স ২টি, জিপ ৩টি, মোটরসাইকেল ১৩৮টি, থ্রি-হুইলার ১০৬টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩টি, বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা ১৯টি এবং অজ্ঞাত গাড়ি ১৮টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা গেছে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৬.৩৭ শতাংশ, সকালে ২৩.১০ শতাংশ, দুপুরে ২৭.৪৯ শতাংশ, বিকেলে ১৭.১৩ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫.৫৭ শতাংশ এবং রাতে ২০.৩১ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৭২টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হয়েছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে। একক জেলা হিসেবে দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি ১৬ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম শরীয়তপুর, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলায়। এই ৫টি জেলায় স্বল্প মাত্রার কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে।

ঈদুল আজহা উদযাপনকালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ মানব সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তার আর্থিক মূল্য ৯৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার মতো। যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনার অনেক তথ্য অপ্রকাশিত থাকে, সেজন্য এই হিসাবের সঙ্গে আরও ৩০ শতাংশ যোগ করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল রোড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম (আইআরএপি) এর মেথড অনুযায়ী হিসাবটি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ যানবাহন বা প্রপার্টি ড্যামেজ হয়েছে তার তথ্য না পাওয়ার কারণে প্রপার্টি ড্যামেজের আর্থিক পরিমাপ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

ঈদ উদযাপনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২০.১৫ জন নিহত হয়েছে। গত বছরের ঈদুল আজহায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ২১.৬ জন। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবছর প্রাণহানি কমেছে ৬.৭১ শতাংশ। তবে এটা কোনো টেকসই উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না। কারণ সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবস্থাপনাগত কোনো উন্নতি হয়নি। তবে গত বছরের ঈদুল আজহা উদযাপনকালের তুলনায় এবছর বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১৩.৩১ শতাংশ।