জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কারণ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া অত্যন্ত গভীর সত্য একটি কথা সামনে এনেছেন। সম্প্রতি বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলো বেকারত্ব। এভাবে জাতীয় সমস্যার একটি শেকড়ে হাত দিয়েছেন তিনি। জুলাই আন্দোলনের অধিকাংশ ছাত্র-জনতা ছিলো বেকারত্বের শিকার কিংবা আশু বেকারত্বের শংকায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিজেদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত তাদের টেনে নিয়েছিলো কোটা বিরোধী আন্দোলনে। তারা আশা করেছিলো, কোটা ব্যবস্থা দূর হলে, এক সময় তাদেরও চাকরী পাওয়া সম্ভব হবে। এটাকে তারা তাই জীবন মরণ সমস্যা হিসেবে দেখতে পেয়েছিলো।
বাংলাদেশে একজন তরুণ বা যুবা পড়াশোনা শেষে অর্থাৎ শিক্ষার সার্টিফিকেট লাভের পর একটি ভালো সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরী পাওয়াকেই গন্তব্য বা লক্ষ্য বলে মনে করে। এদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে তাকে উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী শিল্প কারখানা স্থাপনকারী কিংবা অন্য কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে যেমন উৎসাহিত করা হয় না তেমনি তেমন কোন সাহায্যও করা হয় না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ইউনুস চাকরীজীবী ওয়ার অ্যাম্বিশন ভেঙ্গে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য যুব সমাজের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের জন্য সেই সুযোগ সুবিধা এখনো সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। আদৌ হবে কি-না তাও এ মুহূর্তে বলা মুশকিল।
যা-ই হোক, আসিফ মাহমুদ বলেছেন, তরুণদের মধ্যে যাদের চাকরী বা প্রশিক্ষণ নেই এমন ৫ লাখ যুব নারীসহ মোট ৯ লাখ তরুণকে ২০২৮ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। তিনি আরো বলেছেন, ‘আর্ন’ প্রকল্প কর্মমুখী, উপযুক্ত ও পরিবেশবান্ধব খাতে যুবাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠতে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা প্রদান করবে। তিনি আরো বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৯ লাখ জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে থাকবে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নারী, ২ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন।
বলা বাহুল্য, অত্যন্ত প্রশংসনীয় এই উদ্যোগ। ডঃ ইউনুসের অর্থনৈতিক নীতিমালা ও গাইড লাইন বিশে^র বহু উন্নত ও অনুন্নত দেশ অনুসরণ করে উপকৃত হচ্ছে। তিনি নিজ দেশে যদি এই নীতিমালা ব্যবহার করেন, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে যেতে বাধ্য, এমন অভিমত সচেতন মহলের। কিছুকাল আগে জাতীয় মিডিয়ায় ‘দেশে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, কর্মের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে না দেশের প্রচলিত শিক্ষা। এজন্য দিন দিন শিক্ষিত ও তরুণ বেকারের চাপ বাড়ছে। বিশেষভাবে উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব আশংকাজনক।ফলে সম্ভাবনাময় এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেড়ে যাচ্ছে হতাশা এবং দেশ বঞ্চিত হচ্ছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতির সুবিধা থেকে।
যা-ই হোক, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড়ো অংশ ছিলো সরকারী ও বেসরকারী বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের ক্ষোভের আগুনেই মূলতঃ ভস্মিভূত হয়ে যায় স্বৈরাচারের শোষণ ও বৈষম্যের প্রাসাদ। শুধু নিজেদের দলীয় ও স্বার্থের ভাগিদার লোকজনকে নানা ধরনের কোটার নামে সকল চাকরী প্রদানের বিষয়টি লক্ষ্য করেছে এই বঞ্চিত তরুণ শিক্ষার্থী সমাজ। এর সাথে যুক্ত হয় তাদের অভিভাবক মহলের ক্ষোভ ও হতাশা। এভাবে ছাত্র জনতা নেমে আসে রাস্তায়। এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচারের স্বপ্নের প্রাসাদ বিধ্বস্ত হয়। এটাকে ফরাসী বিপ্লবের সময়কার বাস্তিল দুর্গের পতনের সাথে তুলনা করা যায়। দীর্ঘ শতাব্দির শোষিত বঞ্চিত ফরাসী বেকার তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলো স্বৈরাচারী রাজা লুইয়ের পতনের নেপথ্যে। আর বাংলাদেশের এই বঞ্চিত বেকার যুব সমাজও সফল করেছিলো স্বৈরাচারী হাসিনার বৈষম্য ও শোষণমূলক নীতি ও বিধানের চূড়ান্ত অবসানকে।



