মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা : কী বার্তা দিল ইরান?
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ মার্চ ২০২৬, ৯:১২:০২ অপরাহ্ন
‘অটল সমর্থনে’র প্রতিশ্রুতি পুতিনের
জালালাবাদ রিপোর্ট : ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাঁকে এ পদে নির্বাচন করেছে।
ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আইআরজিসি আরও যোগ করেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) দিয়ে খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকে না এবং এই বিপ্লব ও ইসলামি ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’
১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। তিনি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় আলাভি স্কুলে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বেশ কয়েকবার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন।
এরপর ১৯৯৯ সালে তিনি ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে তিনি বেশিরভাগ সময়েই নিজেকে আড়ালে রেখে আসছিলেন।
তিনি কখনও কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকারও দেননি। তার খুব অল্প সংখ্যক ছবি ও ভিডিওই বাইরে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় কম্পাউন্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই হামলাতেই আলী খামেনির মৃত্যু হয় বলে প্রথমে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আলী খামেনির মৃত্যুুর খবর নিশ্চিত করে ইরানের কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, মোজতবা খামেনির নাম নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণার পর ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করা হয়েছে একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হিসেবে। তাঁর স্ত্রী, মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট-ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করতে কোনো আপস মানতে চায় না। সংঘর্ষ, প্রতিশোধ ও কষ্ট সহ্য করা ছাড়া তারা আর কোনো উপায় দেখছে না।
ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, জনগণের অসন্তোষ এবং চলমান সংঘাতের কারণে মোজতবা খামেনি অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্ব থেকে বড় চাপের মুখোমুখি হতে পারেন। তবু তিনি দ্রুত নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার দিকে এগোবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
হয়তো ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ কঠোর করা হবে এবং ভিন্নমত দমনে কঠোর দমননীতি চালানো হবে।
তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘বিশ্ব তাঁর (মোজতবার) বাবার যুগটি মিস করবে। কঠোর হওয়া ছাড়া মোজতবার হাতে কোনো বিকল্প থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ দমননীতি কঠোর থাকবে।’
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এবং ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালান এয়ার বলেন, ‘মোজতবা তাঁর বাবার থেকেও কঠোর এবং কট্টরপন্থী। তিনি বিপ্লবী গার্ড সদস্যদের পছন্দের মানুষ।’
এই হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি আছে। কারণ, ইসরায়েল আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকে নিশানা করা হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শুধু তখনই শেষ হবে, যখন ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এবং শাসক শ্রেণিকে নির্মূল করা হবে।
এদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনিকে ‘অটল সমর্থনে’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। সোমবার এক বার্তায় তিনি তেহরানের প্রতি মস্কোর সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তার এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে পুতিন বলেন, আমি তেহরানকে আমাদের অটল সমর্থন এবং ইরানি বন্ধুদের সঙ্গে সংহতির বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করতে চাই।





