রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নেপথ্যে
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ মে ২০২৬, ১২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন
বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানী অর্থাৎ ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ঘটনাটি যুগান্তকারী। বলা যায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে আসবে আগামী আগস্ট মাসে, যার পরিমাণ হবে ৩শ’ মেগাওয়াট। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এর আওতায় ১ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটের ২টি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। রূপপুরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দু’টি ইউনিটের কাঠামো তৈরী প্রায় শেষের দিকে। প্রথমটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সঞ্চালন লাইনের কাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া চলতে পারে এক বছর ধরে। বলা বাহুল্য, দেশে যখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই খাতে একটি আশার আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে জনগণের কাছে। তবে এর নেপথ্যে অনেক তিক্ত সত্য নিহিত। সচেতন মহলের মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে এই প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ। এমনকি ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায়ও এর নির্মাণ ব্যয় অনেক বেশী। তাই এতো ব্যয়বহুল প্রকল্প পুরো জাতির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ডুবে আছে। বালিশকান্ড থেকে শুরু করে এমন কোন দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যা এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্য যুক্তরাজ্যে বসবাসরত টিউলিপ সিদ্দিকী ৫শ’ কোটি টাকা পাচার করেছেন রূপপুর প্রকল্প থেকে। রূপপুর কেন্দ্রের ঠিকাদার রোসাটম শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে ওই টাকা দিয়ে এই প্রকল্পের ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত করেছে। অথচ অন্যান্য দেশে ২ হাজার ৪শ মেগাওয়াটের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশী ব্যয় হয় না। এখন পুরো জাতির কাছে এই প্রকল্প ব্যয় একটি বড় ধরনের বোঝা। এখন এই বোঝা এসে পড়েছে নতুন সরকারের কাঁধে।
লক্ষণীয় যে, ২০২৪ সালের ১৭ আগ[স্ট বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা ‘গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প’ নামক সংস্থা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর শিরোনাম ছিলো, ‘আউস্টেড বাংলাদেশ’স প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা, হার সান সজীব ওয়াজেদ জয় অ্যান্ড নিস টিউলিপ সিদ্দিক এমবেজল্ড ৫ বিলিয়ন ডলার্স ফ্রম ওভারপ্রাইজড ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার্স রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থ্রু মালয়েশিয়ান ব্যাংকস্’। কর্পের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাশিয়ার রোসাটম মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে। এতে মধ্যস্থতা করেছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক।
এসব বিষয় বিবেচনায় দেশবাসীর মনে এখন প্রশ্ন জাগছে, এই রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতির স্বপ্নের বাস্তবায়ন, না ভবিষ্যতের আর্থিক বোঝা বা গলার কাঁটা।



