শ্রীহীন নগরী হয়ে ওঠছে বিশ্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬:৫৫ অপরাহ্ন
শ্রীহীন সিলেট নগরীর বিভিন্ন অংশ দিন দিন আরো বিশ্রী হয়ে পড়ছে। হয়ে ওঠছে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ ও বিপজ্জনক। কর্তৃপক্ষসমূহের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতাও এখন স্পষ্ট। ইতোপূর্বে ‘সৌন্দর্য হারাচ্ছে সিলেট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় মিডিয়ায়। এতে বলা হয়, পর্যটন নগরী হিসেবে সিলেটে তার ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারছে না। বাইরে থেকে যখন লোকজন সিলেটে আসে, তখন নগরীর কেন্দ্রস্থলের শ্রীহীন অপরিচ্ছন্ন হাল দেখে হতাশ হয়। সিলেটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কমতি না থাকলেও নগরীর বিভিন্ন স্থান যেমন অপরিচ্ছন্ন, অসুন্দর তেমনি অনাকর্ষণীয়। সম্প্রতি দৈনিক জালালাবাদে ‘রাতের নগরে মরণফাঁদ’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা নামলেই নগরজীবন যেনো থমকে দাঁড়ায়। নগরীর জিন্দাবাজার থেকে আম্বরখানা এবং চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার পর্যন্ত সড়কবাতি নিভে যাওয়ায় চারপাশ ডুবে যায় অন্ধকারে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে পড়ে থাকা ড্রেনের খোলা স্লাবগুলো বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের জন্য। সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে ভয় পাচ্ছেন লোকজন। কোথাও আলো নেই, আবার কোথাও খোলা ড্রেন। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এমনি একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে গত রোববার। সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় খোলা ড্রেনে পড়ে রফিক মিয়া নামক জনৈক বৃদ্ধ আহত হন। রাতে অন্ধকারের মধ্যে অসাবধানতাবশত: খোলা ড্রেনে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তিনি বুকের হাড়ে গুরুত্বর আঘাত পান। নগরীর বিভিন্ন ফুটপাতের টাইলস ওঠে গিয়ে গর্ত ও খাদ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিন লোকজন হোঁচট খাচ্ছেন ফুটপাত দিয়ে চলতে গিয়ে। এক সময় সুবিধা ও সৌন্দর্যের জন্য বসানো টাইলস এখন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকালীন করিৎকর্মা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ফুটপাত তৈরী করে প্রশংসিত হন। কিন্তু তারপর থেকে নগরী বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন এলাকা এখন অনেকটাই অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝে মাঝে কিছু টুকটাক সংস্কার ও মেরামত কাজ হলেও দিন দিন শ্রী হারাচ্ছে নগরী। যে হারে সংস্কার কাজ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। ময়লা আবর্জনা ও আবার জমতে শুরু করেছে নগরীর কেন্দ্রস্থলের অনেক স্থানে। খোদ নগরীর কেন্দ্রস্থলের অনেক রাস্তা এখনো বড়ো বড়ো খাদ ও গর্তে পরিপূর্ণ। একটু হলে সেগুলো দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়ে। বন্দরবাজার থেকে পূর্বমুখী সিলেট-তামাবিল সড়কটির শুরুতেই গলদ। জেলের দক্ষিণ পাশের প্রধান সড়কটির স্থানে স্থানে খাদ বিদ্যমান। যানবাহনকে হোঁচট খেতে খেতে এই স্থান দিয়ে চলতে হয়। বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের এই স্থান দিয়ে চলতে গিয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে। স্থানটি নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার একটি জ্বলন্ত নজির হয়ে আছে। অসংখ্য বার এ নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হলেও এই অল্প স্থানটুকু পথচারী ও যানবাহনের জন্য স্বস্তিকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ রকম আরো বেশ স্থান রয়েছে নগরীতে।
ইদানিং জ্বালানী সংকটের কারণে সন্ধ্যার পর বেশীর ভাগ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নিভে যাচ্ছে রাস্তাঘাটের বাতি। এ অবস্থায় নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ। এই সুযোগে সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অপরাধীদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বেরোনো দূরে থাক, অনেকে এ সময় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ঘরে ফিরতেও শংকা বোধ করছেন। মাঝে মাঝে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। সব মিলিয়ে সিলেট নগরীকে এখন আর প্রশান্তি ও স্বস্তির স্থান বলা যাবে না। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনকে এসব সমস্যা দূরীকরণে এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধ দমনে কঠোর হতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে এমন প্রত্যাশা ও দাবি নগরবাসীর।



