প্রাসঙ্গিক হউক বাংলা নববর্ষ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪০:৫৮ অপরাহ্ন
আজ ১ বৈশাখ, বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। বাংলা নববর্ষ বাঙালির জাতীয় উৎসব, প্রাণের উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে অধীর অপেক্ষায় আছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে। দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে। তাই এবার ভিন্ন আবহে মেলা, উৎসবসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১ বৈশাখ উদ্যাপন করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সম্রাট আকবরের সময় খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা নববর্ষ চালু হয়। এর পর থেকে নববর্ষকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা সারা বছরের হিসাব-নিকাশ করে থাকেন, হালখাতা খোলেন। ক্রেতারা বকেয়া শোধ করেন। শত শত বছর ধরে এ ধারা চলে আসছে। আশার কথা, বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখী অর্থনীতি বেশ চাঙা হয়ে উঠে। গ্রাম-গঞ্জ একটি নতুন উৎসবের মাত্রা পায়।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়ে থাকে। এটি আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলা নববর্ষেরও একটি উজ্জ্বল ভূমিকা আছে।
সমতলে বাঙালিরা যখন নববর্ষ উদ্যাপন করে, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিনটি সম্প্রদায়ও নতুন বছরের শুরুর উৎসব বৈসাবি উদ্যাপন করে থাকে; যা ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুব, বৈসু বা বাইসু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। এটাও তাদের বর্ষবরণ। এককথায় বাংলা নববর্ষে দেশ যেন নতুনভাবে জেগে উঠে।
তবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, আমাদের চিন্তাচেতনা, মনন ও প্রাত্যহিক জীবনেও বাংলা নববর্ষ প্রাসঙ্গিক হওয়া জরুরী। নতুন বছর সবার কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনুক। স্বাগত ১৪৩৩।





