একদশকে বজ্রপাতে মৃত্যু সাড়ে ৩ হাজার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯:৩১ অপরাহ্ন
সরকারী সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশে গত এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দশ বছর আগে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রাণহানি থেমে নেই। এখনও প্রায় প্রতি বছরই কয়েকশ’ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশে।
দেখা গেছে, বাংলাদেশে সাধারণতঃ মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশী বজ্রঝড় হয়। আর এই দুর্যোগ সবচেয়ে বেশী হয় দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল সিলেটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশী প্রাণহাণির ঘটনাও ঘটে সিলেট অঞ্চলেই। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছে মোট ৩ হাজার ৬৫৮ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত বজ্রপাতে ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষ মারা গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশী বজ্রপাত হয়। জেলার ভেতর জামালগঞ্জ উপজেলাই সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ। মূলত: মৌলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে সিলেটে বজ্রপাত বেশী ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ এলাকার আশেপাশেই বজ্রপাত বেশী হয়।
এক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলের বড় বড় হাওর রয়েছে, যা থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প তৈরী একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস দক্ষিণ পশ্চিম দিক দিয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রবেশ করে। এই আর্দ্র বাতাস সিলেটের উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্রুত উপরের দিকে ওঠে যায়। আর এই উর্ধমুখী আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে মেঘ, বিশেষ করে বজ্রমেঘ তৈরী হয়। এই প্রক্রিয়ায়ই বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরী করে।
এছাড়া-পশ্চিম দিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষও বজ্রপাতের একটি বড়ো কারণ। এই দুই ধরনের বাতাসের মিলনস্থল হিসেবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের কিছু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা বেশী ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সর্বোপরি, হাওরের জলীয় বাষ্প, পাহাড়ের বাধা এবং ভিন্ন ধরনের বায়ু প্রবাহের সংঘর্ষ-এই তিনটি প্রধান কারণে সিলেট ও এর আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বেশী দেখা যায়।
বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হচ্ছে, খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতি। কৃষক, জেলে বা মাঠে কর্মরত লোকজন ঝড়ের সময়ও বাইরে থাকেন, ফলে তারা বজ্রপাতের শিকার হন। বজ্রপাতের সময় কী করা উচিত, তা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছে। সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো ঘরের অভ্যন্তর। খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু গাছের নীচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক। অনেক ক্ষেত্রে বজ্রপাত কাছাকাছি আঘাত করলেও বৈদ্যুতিক প্রবাহ মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা আশেপাশে থাকা মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে। তাই অতি জরুরী প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে যেতে হবে।
এছাড়া বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলা মাঠে যদি কেউ থাকেন, তাহলে তাকে পায়ের আঙুলের ওপর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নীচু হয়ে বসে পড়তে হবে। বজ্রপাতের আশংকা দেখা দিলে যতো দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নীচে আশ্রয় নিতে হবে। এ সময় ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে যাওয়া উচিত হবে না। খালি জায়গায় যদি উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ধাতব পদার্থ বা মোবাইল টাওয়ার থাকে, তবে এসবের কাছাকাছি থাকা যাবে না। বজ্রপাতের সময় ছাউনীহীন নৌকায় মাছ ধরতে না যাওয়াই ভালো। সমুদ্রে বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকায় ছাউনীর নীচে আশ্রয় নিতে হবে।
যদি কেউ গাড়ির ভেতরে থাকেন, তবে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ রাখা যাবে না। আর যেহেতু বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে না, তাই দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে চিকিৎসার স্থানে সরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।





